মুজিববর্ষ গৌরীপুরের ১৭৭বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার!

প্রধান প্রতিবেদক :
‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানো’ এ শ্লোগানে মুজিববর্ষে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শতভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণার’! উপজেলার ১৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দূর্লভ ছবি, মুক্তিযুদ্ধ, ৭১’র রণাঙ্গন, প্রেক্ষিত বাংলাদেশ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি আর সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমি স্থান পেয়েছে এ কর্ণারে।

শেখ লেবু স্মৃতি পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এম.পি। তিনি বলেন, যে মানুষটির জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন ভূখন্ড হতো না তিনি ‘শেখ মুজিব’। যার ডাকে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তার আদর্শ আর কর্মকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন সোমবার (৯ মার্চ/২০২০) জানান, বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি আর কর্মকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরার প্রয়াসে প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সম্যকধারণা খোঁজে পাবে।

সরজমিনে শেখ লেবু স্মৃতি পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, একটি ছবি কর্ণারে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ঐতিহাসিক পটভূমি, তুলে ধরা হয়েছে ২৫মার্চের সেই কালো রাতে দূসরদের আক্রমণ, ভারতের শরানার্থী শিবিরের অবস্থা, যুদ্ধে অংশ নেয়া তরুণদের সেই শ্লোগান ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো-বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধে নারী যোদ্ধা, হত্যাযজ্ঞ, যুদ্ধের অসংখ্য খন্ডচিত্র, একেক স্থান স্বাধীন হওয়ার বিজয় উল্লাস, পাকিস্তানীদের আত্মসমর্থনের সেই ঐতিহাসিক পটভূমি ও বিজয় বাংলাদেশ। আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যেকটি সেন্টরের বর্ণনা ও যুদ্ধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের স্মৃতিময় দূর্লভ ছবি। বঙ্গবন্ধু কর্ণারের অপর অংশে তাকলেই যেন চোখের পানি ধরে রাখা যায় না, সেই গ্যালারীতে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীদের গুলিতে রাস্তাঘাট, দালাল-কোটায় ছড়িয়ে থাকা নিহতের লাশ আর বধ্যভূমি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস তুলে ধরার জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে বালুয়াপাড়া পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেবুনন্নেছা জানান, তার বিদ্যালয়ে ৩৭টি দূলর্ভ ছবি আর মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবনবৃত্তান্ত এবং বাংলাদেশের দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষ সুমনা সফিনাজ লাবণী বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজের সামনেই বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পাচ্ছে। এ কর্ণারে একবার ঘুরে আসলেই বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশ সম্পর্কে তার প্রাথমিক ধারণা হয়ে যাবে। শিশুরা আগ্রহ নিয়েই প্রতিদিন এ কর্ণারে যাচ্ছে। সতিষা পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদা ইয়াসমিন জানান, শিশুদের মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে জানতে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এ কর্ণার থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।

অপরদিকে শহরের পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার। প্রধান শিক্ষক একেএম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস জানান, বঙ্গবন্ধুর ছবি, স্বাধীন বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহ শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ কর্ণার নির্মাণ করা হয়েছে। চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বিনতে ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু কর্ণারে একটি শিশু প্রবেশ করলে সে যেন বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্ন গুলো দেখতে পারে, সেই লক্ষে সাজানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার। উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন জানান, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালা চলছে। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এর ভিশন ২০৪১বাস্তবায়নের জন্য আজকের শিশুকেই প্রস্তুত করতে হবে। সেই ভিশনের লক্ষে বঙ্গবন্ধুকে জানতে প্রত্যেকটি স্কুলে বঙ্গবন্ধু কর্ণার নামে প্রকৃত কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশকে খোঁজে পাবে শিশুরা। অপরদিকে মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ, গোবিন্দপুর, গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর, গাভীশিমুল, হাঁটশিরা, গজন্দর, অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ, অচিন্তপুর, মাওহা ইউনিয়নের ভুটিয়ারকোনা, মাওহা, সহনাটী ইউনিয়নের পাছার, গিধাউষা, ধোপাজাঙ্গালিয়া, বড়ইকান্দি, বোকাইনগর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া, বোকাইনগর, বেতান্দর, রামগোপালপুর ইউনিয়নের রামগোপালপুর, নওয়াগাঁও, ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া, তাঁতকুড়া, ডৌহাখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও অনুরূপ বঙ্গবন্ধু কর্ণার সুসজ্জিত দেখা যায়।

টি.কে ওয়েভ-ইন