মুজিববর্ষে পুলিশ হবে জনতার ॥ প্রমান দিয়ে চলছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ

এম.এ আজিজ, ময়মনসিংহ :

পুলিশের সর্ম্পকে মানুষের মান্ধাত্তা আমলের ধারণা পাল্টে দিয়েছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। করোনা ভাইরাস দুর্যোগে সারা বিশ্ব হা-হতাশ করছে। মানবতা বিপন্ন হতে চলছে। ঠিক সেই মুহুর্তে পুলিশ, ডাক্তার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ছাড়া কেউ পাশে নেই। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। উন্নয়নশীন এই দেশে পুলিশ সম্পর্কে যুগ যুগ ধরে চলে আসা মান্ধাত্তা আমলের ধারণা পাল্টে দিতেই ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ কাজ করছে। করোনার দুর্যোগকালীন সময়েও পিছপা হয়নি তারা। ভয়ভীতি, লোভ লালসা উপো করে দিনরাত মাঠে বিচরণ করে জনগণকে নিরাপদে ঘরে রাখতে কাজ করছে। পুলিশের শাসন নয়, মানবিকতা দিয়ে দিনের পর রাতের পর দিন ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরীসহ আশপাশ এলাকায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। মুজিববর্ষে সত্যিই পুলিশ-জনতার হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সম্পর্কে ময়মনসিংহবাসিও তাই মনে করছেন।
করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী একটি একটি মহামারি। ভাইরাস জনিত এই রোগে বিশ্ব দুনিয়া থর-থর করে কাপছে। বিশ্বব্যাপী মহাদুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। শত কোটি মানুষ চরম দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে। মানবতা হয়ে দাড়িয়েছে ক্রমান্বয়ে প্রখর। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমেছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশ সহ প্রায় সকলদেশে সাধারণ ছুটি চলছে।
দোকানপাঠ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, মহাসড়কে যানবাহন বন্ধ রাখতে সরকারি নির্দেশনাসহ সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত কাউকে ঘর থেকে বের না হতে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশের অনেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়। ময়মনসিংহে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী দিনরাত টহল দিয়ে আসছে।
বিভাগীয় নগীরতে সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ। মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। বিশেষ করে বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত এক ভুতুরে নগরীর সৃষ্টি হয়। শুধু অন্ধকার, জনমানবহীন যেন অন্য এক দেশ। না দেখলে যেন চেনা দায়। এ অবস্থায় ময়মনসিংহে পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের নির্দেশে ও নেতৃত্বে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে ঝাপিয়ে পড়েছে। সকল দুর্যোগ, ভয়ভীতি উপাে করে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে তরুণ অফিসারদের সমন্বয়ে রাতদিন জনগণের পাশে থাকার অঙ্গিকারাব্দ হয়ে মাঠে নামে। করোনার ভয়াবহতা এবং সংক্রমণরোধে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জনগণকে সচেতন করতে কাজ শুরু করেন। এ সময় লিফলেট, মাস্ক বিতরণ, খেলার মাঠ থেকে শিশু কিশোরদের ঘরে ফিরাতে অভিভাবকদের ডেকে তাদের হাতে তুলে দেয়া। এতেই থেমে নেই পুলিশ বাহিনীর এই দ দলটি। মানবিকতার পরিচয়ে নিজেদেরকে পরিচিত তুলে। পুলিশের ভামুর্তি উজ্জল করে তুলেন। মানবিকতায় আলোচিত হয় ময়মনসিংহ পুলিশ বিভাগ। আলোচিত হন পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান। অবশ্য ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, এ সবই সম্ভব হয়েছে মানবিক, দায়িত্বশীল, দ, কৌশলী পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের সঠিক ও সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে।
ডিবির ওসি জানান, মুজিববর্ষে সত্যিই পুলিশ-জনতার এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে, পুলিশ সুপারের নির্দেশে কাজ করছি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনায় যানবাহন চলাচল, দোকানপাঠ, কর্মমুখি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ায় মানুষজন গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। কর্মজীবি, নিম্ন আয়, ও শ্রমজীবিরা বেকার হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও নেতৃত্বে পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকে অসহায়দের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিতে কার্যক্রম শুরু করা হয়। বেকার ও কর্মহীন মানুষদের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌছে দিতে পুলিশ সুপারের হয়ে ডিবি পুলিশ শুরু থেকে কাজ করে। কয়েক হাজার কর্মহীন অভাবগ্রস্থদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নগরীতে ভাসমানদেরকে রাতে রান্না করা খাবার প্যাকেট দেয়া হয়। একই সাথে ঘরে আটকা থাকা অসহায় কর্মহীন, যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না, তাদের ঘরের কাছে হাতের নাগালে চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে পুলিশ সুপার ফ্রি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নেন। গত ১৩ এপ্রিল থেকে এই চিকিৎসাসেবা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলে। এই মহত উদ্যোগে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ স্বাচিপ চিকিৎসা প্রদান করে আসছে।
মানবিক, দ ও দায়িত্বশীল ডিবি পুলিশ ফ্রি চিকিৎসাসেবা, অসহায়দের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়া, মাস্ক, লিফলেট, সাবান বিতরণ, স্যানিটাইজার, আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, লকডাউনে মানুষজনকে ঘরে রাখার দায়িত্ব সবই পালনে ভয়ভীতি উপো করে ডিবি পুলিশ পুরো নগরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।
ডিবির ওসি আরো বলেন, বর্তমান পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান যোগ দিয়েই করোনার মুখোমুখি হন। বিশ্বব্যাপী এই অদৃশ্য শক্রর বিরুদ্ধে সবাই একজোট হয়ে লড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব এমন ভয়ংকর অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি কখোনো হয়নি। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলেই পুলিশ সুপার মানবিক দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেন। সর্বশক্তি দিয়ে সাধারন মানুষকে বাঁচানোর লড়াইয়ে নিজস্ব উদ্যেগে গোপনে মাঠে নামেন পুলিশ সুপার। তার সকল কাজে সহায়তা দিতে ডিবি পুলিশ সব সময় পাশে থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে রাখা, সাধ্যমত আহার যোগার করা, সংক্রমণ কমাতে জেলা, উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি অবহেলিত বেদে সম্প্রদায়, বস্তিবাসী, এতিম, কুলি, অসহায় মানুষ, মধ্যবিত্ত, নাপিত, সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা এবং রাতে ঘুরে ঘুরে ভাসমানদের রান্না করা খাবার বিতরন করা হয়। এছাড়াও জেলা পুলিশের পে হাসপাতালে পিপিই বিতরন করা হয়েছে। ওসি শাহ কামাল বলেন, মানুষজনকে ঘরে রাখতে সব ধরণে প্রচেষ্টা, কৌশল আমরা মাঠে প্রয়োগ করছি। এছাড়াও লকডাউন পরিস্থিতিতে কোন ধরণের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি কেউ যাতে অবনতি ঘটাতে না পারে তার দিকে বিশেষ নজরদারির সাথে নিয়মিত টহল চলছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত এই টহল চলে আসছে। তিনি আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে সহযোগীতা করতে নগরবাসির প্রতি আহবান জানিয়েছেন।