ভিপি শাহীনের মুক্তির দাবিতে উত্তাল ফেসবুক

গৌরীপুর প্রতিনিধি ঃ
ভিপি শাহীন। যার পুরো নাম মাহবুবুর রহমান শাহীন। নির্বাচিত হন গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেলে ভিপি। আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মীও তিনি। সহজ, সরল ও পরোপকারীখ্যাতও।
দায়িত্বে ছিলেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার। গত ১৬এপ্রিল গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ। অবশ্য তিনি এ অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানান, বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ স্বপন মিয়া ১৮টি কার্ড দিয়ে পাঠান। সেই ১৮জনের চাল তুলতে আসেন মহেষ রাজবর। যার নিকট থেকে চাল ক্রয় করেন মোঃ রিয়াজ মিয়া। তবে রিয়াজ মিয়ার বক্তব্য ছিলো ভিন্ন। ফলে এঘটনায় গৌরীপুর খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সরকার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল/২০২০) মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্র জানা যায়, বৃহস্পতিবার ২টি প্লাস্টিকের বস্তায় বোকাইনগর ইউনিয়নের কালিবাড়ীর মোঃ রফিক মিয়ার পুত্র মোঃ রিয়াজ মিয়া (২০) ও লুটন রাজবরের পুত্র মহেশ রাজবর (৪৫) নিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর ও গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন চাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওরা দু’জন জানায় যে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার কালীপুর মধ্যম তরফের মোঃ হাবিবুর রহমানের পুত্র মোঃ মাহবুবুর রহমান শাহিন (৪৫) ও বোকাইনগর ইউনিয়নের মেম্বার বালুচড়া গ্রামের আবু সাঈদ সাহেদের পুত্র মোঃ স্বপন মিয়ার নিকট হইতে চাল এনেছে।
এ দিকে ভিপি শাহীন গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদে ঝড়, মুক্তির দাবি অসংখ্যা মানুষের বিবৃত্তি ফেসবুকে ঘুরছে। ভিপি শাহীনের মুক্তির দাবিকে জোরালো করতে ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আন্তঃযোগাযোগও হয়েছে।

ফেসবুকে দেয়া মন্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল লিখেন :

ভিপি শাহীনকে যড়ষন্ত্রমূলক গ্রেফতারের বিয়টি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ ও গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ গুরুত্বসহকারে নিয়েছে । শাহীনের প্রতি কোন অন্যায় হয়ে থাকলে তার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অনুরোধ করা হবে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মোঃ কামাল হোসেন ফেসবুকে লিখেন :

ভিপি শাহীন অত্যন্ত ভালো ছেলে। যেখানে টনের পর টন চাল চুরি হয় সেখানে মাত্র ১৭০কেজি চাল। আমি মনে করি আসল চোরেরা সুযোগ পায় না বলে শাহীনকে ফাসানো হয়েছে। যেখানে শত শত মানুষের কাছ থেকে তদন্ত করার সুযোগ আছে সেখানে দুই একজনের কথায় না গিয়ে আরোও অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে মামলা করা উচিত ছিলো…একটা মানুষের সারা জীবনের অর্জন.. নিমিষে শেষ করে দিতে চায় ওরা…

তিনি অপর মন্তব্যে লিখেছেন :

ভিপি শাহিনের গ্রেফতারের প্রতিবাদে জনমত গঠনের লক্ষে আমরা আলোচনা করে যাচ্ছি.কাল বা পরশু চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবো.সবার সহযোগিতা এবং অংশগ্রহন কামনা করি।

পৌর আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ সুশান্ত সাহা প্রেমু তার মন্তব্যে লিখেন :

আমরা বন্ধুরা যখন এইচএসসি ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হই তখন প্রথম জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান মাহবুবুর রহমান শাহীন ভাই এর পিছনে দিয়েছি।আমরা বন্ধুরা তাকে গুরু বলেও সম্বোধন করি।উনার সাথে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের এতই মধুর সম্পর্ক ছিলো যে,তার পকেটে ২০ টাকা থাকলেও তা সবাই রেখে দিয়েছে।শুধু ছাত্রলীগের ভিপি হিসাবে নয় ছাত্রদলের অনেক নেতা কর্মীকেও নিজে বিভিন্ন ফিস কমিয়ে দিতে সুপারিশ করতেন বা প্রিন্সিপাল অফিস পর্যন্ত যেতেন। একজন অন্যায়কারীর বিচার সবাই দাবি করি,কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি এইরকম বিচার কেউ আশা করেনি।আমি নিজের উপর বিশ্বাস রেখেই বলছি শাহীন ভাই এই কাজ করতে পারে না।এইখানে কোন ভুল হয়েছে।সবাই সবক্ষেত্রে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না,শাহীন ভাইয়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।আর ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার দেখিয়ে আপনারা যা দেখিয়েছেন তা সৃষ্টিকর্তা মনে রাখবে।

গৌরীপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি বেগ ফারুক আহাম্মেদ লিখেন :

** ভিপি শাহীনের জন্য অন্তরে রক্তক্ষরন।পূনঃতদন্তের দাবী**
[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[]]]]]]]]]]]]]][]]]]]]]]
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৭০ কেজি ওএমএস এর চাল যার মূল্য ১৫০০/=টাকা মাত্র বিক্রির অভিযোগে শাহীনকে গ্রেফতার করা হয় । আমরাও চাই অপরাধী ধরা পড়ুক। কিন্তুু মোঃ মাহববুব রহমান শাহীন তার একান্তিক প্রচেষ্টায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার গৌরবময় গৌরীপুর সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত ভিপি। ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী থেকে আজ একজন আওয়ামীলীগ নেতা হয়ে উঠেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে সে সকল চাওয়া পাওয়ার উর্ধে উঠে একজন সহজ- সরল প্রিয় শাহীনে পরিনত হয়েছে।আর আজ মাত্র ১৭০ কেজি চাল এর জন্য প্রিয় শাহীনকে এত বড় দন্ড দেওয়া হলো। কোথায় যেন এর একটা ফাকা জায়গা লুকিয়ে আছে। গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সন্পাদক এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন জুয়েল তার ফেইজ-বুক আইডিতে লিখেছেন সে ষড়যন্ত্র বা গ্রোপিং এর শিকার কিনা? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের সহযোগিতায় লক্ষ-লক্ষ,কোটি-কোটি টাকা শত-শত বস্তা ত্রান লুটেরেরা নিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ১৭০ কেজি চালের জন্য এত বড় মানহানিকর দন্ড কোনভাবে গৌরীপুরের বেশীর ভাগ মানুষ গ্রহন করতে পারছে না। তার বাস্তব প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সচেতন মহল মনে করেন পল্লব ডিলার ৪ বৎসর যাবত বিপুল সংখ্যক কার্ডের চাল আত্বসাৎ করার পরও শুধুমাত্র লাইসেন্স বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। মামলা করা হয়নি। আর শাহীনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার এবং মামলার বিষয়টি তাদের নিকট দ্বিমুখী মনে হচ্ছে। গৌরীপুর সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং একজন মিডিয়াকর্মী হিসাবে সচেতন মহলের মত আমার অন্তরেও শাহীনের জন্য রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দৃষ্টি আকর্ষন করছি মাননীয় সাংসদ এডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ মহোদয়ের। সুবিচার এবং পূনঃ তদন্তের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজতি ধর মহোদয় এর নিকট যথাযত ব্যবস্হা নেওয়ার প্রত্যাশা করচ্ছি।
গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ শফিকুল ইসলাম হবি লিখেছেন :
#ভি,পি #শাহীন অত্যন্ত সহজ সরল, সুস্থ চিন্তা চেতনার মুজিব আদর্শের একজন বিনয়ী রাজনৈতিক মানুষ,মাত্র ১৭০কেজি চাল নিয়ে ভিপি শাহীন গ্রেফতারের খবরে অামি বিস্মিত হতবাক!!শাহীনের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হলো আরো একটু যাচাই করাটা কি প্রয়োজন ছিলো না? এটা কি চুরি নাকি অনিয়ম?নাকি ভুল বা কোন চক্রান্ত? অথচ এই উপজেলায় বড় বড় রাঘব বোয়ালরা টনের টন চাল চুরি করে খাচ্ছে, দূর্নীতিবাজরা অনেকেই প্রশাসনের সাথে সাথে ছবি আর সেলফি তুলে যাচ্ছে বুক হাকিয়ে..!!!
১৭০ কেজি চাল, যার মূল্য মাত্র ১৫০০ টাকা!! অথচ ১৫ লক্ষ টাকার চেও বড় অপরাধ করার মতো সুযোগ তার হাতে ছিলো কিন্তু সে কখনো করেনি এখনো করার ক্ষমতা রাখে কিন্তু সেটাও সে করেনি বা করবেও না এটা অামার বিশ্বাস।
দু ‘একজনের তথ্য নিয়ে মামলা না করে বিষয়টি অারো গভীরে তদন্ত করা দরকার ছিলো।এটা কোন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কিনা।
গৌরীপুর সরকারি কলেজের জনপ্রিয় সাবেক ভিপি মাহবুবুর রহমান শাহীন কে গ্রেফতারে তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মামলাটি পূনঃতদন্ত পূর্বক সঠিকতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।।

গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি লিখেছেন :

ভিপি শাহীন ভাই অত্যন্ত সহজ সরল ও বিনয়ী। একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক….
ভিপি শাহীন ভাই গ্রেফতারে অামি বিস্মিত হতবাক।
১৭০ কেজী চাল নিয়ে শাহীন ভাইয়ের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হলো অথচ এই উপজেলায় এর চেয়েও বড় বড় রাঘব বোয়ালরা টনের টন চাল চুরি করে খাচ্ছে।
১৭০ কেজি চাল, যার মূল্য মাত্র ১৫০০ টাকা –
অথচ ১৫ লক্ষ টাকার চেও বেশী বড় অপরাধ করার ক্ষমতা রাখে শাহীন ভাই। কিন্তু সেটা ওনি কখনই করেননি বা করবেও না এটা অামার বিশ্বাস।
দু একজনের তথ্য নিয়ে মামলা না করে বিষয়টি অারো গভীরে তদন্ত করা দরকার ছিলো। এটা কোন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কিনা।
গৌরীপুর সরকারি কলেজের জনপ্রিয় সাবেক ভিপি মাহবুবুর রহমান শাহীন ভাইকে গ্রেফতারে তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মামলাটি পূনরায় তদন্ত করে সঠিক রিপোর্ট তৈরি করার অনুরোধ জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে…