বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণ পোষণে তৈরি হচ্ছে বিধিবিধান

তপন বিশ্বাস ॥ বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সঙ্গে রাখার বিধান রেখে বিধিমালা প্রণয়ন করছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কোন কারণে সঙ্গে রাখা সম্ভব না হলে পিতা-মাতার ভরণ পোষণের ব্যয়ভার বহন করতে হবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে সন্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও থাকছে। আইনে এই অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাস জেলের বিধান রয়েছে। এটি পিতা-মাতার ভরণ পোষণ বিধিমালা নামে অভিহিত হবে।

আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও শাস্তি মেনে নিয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে প্রতিপালনে কোন সন্তান রাজি না হলে, কে তাদের দেখবেন, এমন কোন দিকনির্দেশনা আইন বা খাসড়া বিধিমালায় নেই। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা চালু থাকলেও সে ক্ষেত্রেও বঞ্চিত থাকার অসংখ্য নজির রয়েছে। এমনকি প্রতিবন্ধী ভাই-বোন থাকলে তাদের ভরণ পোষণ কে কিভাবে দেবেন তার কোন কথাই আইন বা বিধিতে রাখা হয়নি। এছাড়া নিঃসন্তান বৃদ্ধদের কি হবে তাও কোথাও বলা হয়নি।

এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা উচিত। বিধিমালাতে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, আমরা বয়স্ক-ভাতা, বিধবা ভাতা চালু করেছি। এখন সন্তান কর্তৃক বয়স্ক পিতা-মাতার ভরণ পোষণও করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ দেশে এখনও অনেক সন্তান আছেন যাদের জন্য আইনের কোন প্রয়োজন হয় না। তবে একথা ঠিক যে কিছু সন্তান আছেন, যারা বৃদ্ধ পিতা-মাতার দায়িত্ব নিতে চান না। তাদের জন্যই আইনটি কঠোর করা হচ্ছে। বিধিমালায় এই সকল বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা হবে। প্রসঙ্গত ভারতের অসম সরকার এই সমস্যা প্রতিকারে সম্প্রতি একটি আইন পাস করেছে। সেখানে কোন চাকিরজীবী সন্তান বৃদ্ধ পিাতা-মাতাকে প্রতিপালন না করলে তার বেতনের ১০ শতাংশ কর্তন করে পিতা-মাতার এ্যাকাউন্টে প্রদানের বিধান রেখেছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের জন্য বেতনের পাঁচ শতাংশ কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের পাঁচ বছর পর পিতামাতার ভরণ পোষণ নামে বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। খসড়া এই বিধিমালায় বলা হয়েছে, সন্তান পিতা মতাকে সঙ্গে রাখতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে পিতামাতা যার সঙ্গে বসবাস করতে চায় তা প্রাধান্য দিতে হবে। অন্য সন্তারা সমভাবে পিতা মাতার ভরণ পোষণ ব্যয় বহন করবেন। একমাত্র সন্তান যৌক্তিক কারণে পিতা-মাতাকে সঙ্গে রাখতে না পারলে তাদের ভরণ পোষণ ব্যয় ব্যাংকিং চ্যানেলে তাদের হিসেব নম্বরে পাঠাবেন। একাধিক সন্তান থাকলে এবং যৌক্তিক কারণে পিতা-মাতাকে সঙ্গে রাখতে না পারলে তারা সম্মিলিতভাবে নির্ধারিত অর্থ সরাসরি অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের দিতে হবে। যে সব সন্তান পিতা-মাতার প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের প্রণোদনা হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হবে। উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দিবসে অতিথি হিসেবে তাদের আমন্ত্রণ করা হবে। পিতামাতার ভরণ পোষণে স্থায়ী ও চলতি তহবিল গঠন করা হবে। চলতি তহবিল জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় পরিচালিত হবে। স্থায়ী তহবিল জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত হবে। খসড়া বিধিমালার দ্বিতীয় অধ্যায়ে জাতীয়, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, শহর এবং পিতামাতার ভরণ পোষণ সহায়ক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিধিমালাটির খসড়া চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

খসড়া বিধিমালায় পিতা-মাতার আচরণের বিষয়ে বলা হয়েছে, তাদের প্রয়োজন ও অনুভূতিগুলো সন্তানদের একত্রিতভাবে অথবা আলাদাভাবে অবহিত করবেন। সব সমস্যা নিয়ে সন্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সমস্যা সামাধান না হলে বর্ধিত পরিবারের সদস্য অথবা স্থানীয় ভরণ পোষণ কমিটির সহায়তা নেবেন। তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সুরক্ষার চেষ্টা করবেন। তাদের ভবিষ্যত সুরক্ষায় সঞ্চয় করবেন। নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা বিষয়ক শিক্ষা সন্তানসহ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবেন। তাদের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের সেবাযতœ নিজেরাই নেয়ার চেষ্টা করবেন। সন্তান পিতা-মাতার কোন প্রয়োজন তাৎক্ষণিকভাবে মেটাতে না পারলে যথাসম্ভব ধৈর্য্য ধারণ করবেন। সন্তানদের আচরণ বিষয়ে খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতার সঙ্গে সর্বাবস্থায় মর্যাদাপূর্ণ আচরণ ও যতœসহকারে দেখভাল করবেন। পিতা-মাতার মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। পিতা-মাতার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে। প্রয়োজনীয় সেবা শুশ্রুষা, পথ্য ও অন্যান্য উপকরণ যথাসম্ভব দ্রুত সরবরাহ করবেন। পিতা-মাতার নিজস্ব সম্পদ বিনষ্ট করা যাবে না। তাদের আইনগত অধিকার, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি ও মোহরানা সমুন্নত রাখতে হবে। পিতা-মাতার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করবে। কোন প্রকার ছলচাতুরীর মাধ্যমে পিতা-মাতার সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার করা যাবে না। পিতা-মাতার সম্পদে অন্য উত্তরাধিকারীগণের অংশ আত্মসাত করা যাবে না। পিতা-মাতার নিজস্ব সম্পদ না থাকলে তাদের কোনরূপ দোষারোপ করা যাবে না। পিতা-মাতার সুনাম, মর্যাদা ও পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে পিতা-মাতার অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। পিতা-মাতার ভোটাধিকার, ধর্মাচার নাগরিক অধিকার প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। পিতা-মাতাকে দৈনিক তিন বার খাদ্য সরবরাহ, বয়স, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধিতা বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শে পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ দিবসে বা অনুষ্ঠানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করে উন্নতমানের খাবার দিতে হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক, ধূমপান, মাদকদ্রব্য ইত্যাদি পরিহারে পিতামাতার সঙ্গে কাউন্সিলিং করতে হবে। ঋতু বিবেচনা করে পিতা-মাতার পছন্দমতো আরামদায়ক বস্ত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। বছরে অতিরিক্ত এক সেট নতুন পোশাক দিতে হবে। পিতা-মাতার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের জন্য বিছানাপত্র, আসবাবপত্রের সংস্থান, শৌচাগার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা এবং প্রবীণবান্ধব জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে বছরে কমপক্ষে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পিতা-মাতার বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ এবং পথ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন সংরক্ষণ করতে হবে। সন্তানের অনুপস্থিতিতে তাদের স্ত্রী সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যরা পিতা-মাতার উপযুক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। নাতি, পুত্রবধূ বা নিকটাত্মীয়রা পরিচর্যা করতে না পারলে কেয়াগিভারের মাধ্যমে পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। তা সম্ভব না হলে পরিচর্যা কেন্দ্রের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিচর্যাকেন্দ্র নিয়মিত বিরতিতে পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাত করতে হবে।

সঙ্গ প্রদান ॥ সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা পিতা-মাতার সঙ্গে নিয়মিত সঙ্গ দিতে হবে। সন্তানের চাকরি বা অন্য কারণে নিয়মিত দেখা করা সম্ভব না হলে বছরে কমপক্ষে দুইবার পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাত করতে হবে। প্রবাসী সন্তান বা সন্তানরা প্রয়োজনে আধুনিক যোগাযোগ পদ্ধতির মাধ্যমে পিতা-মাতার নিয়মিত খোঁজখবর নিতে হবে। বিনোদনকে গুরুত্ব দিয়ে পিতা-মাতাকে টেলিভিশন, কম্পিউটার দেখার, ক্লাব, পাঠাগার, পার্ক ঘোরার খবরের কাগজ, বই ইত্যাদি পড়ার জন্য নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে। তাদের ইচ্ছাকে প্রধান্য দিয়ে সন্তানদের সামর্থ্য অনুসারে ভ্রমণের আয়োজন করতে হবে। পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করলে সব সন্তান সশরীরে উপস্থিতি থেকে তাদের দাফন-কাফন, সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের দায় দেনা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন সন্তান বিদেশে অবস্থান করলে বা যৌক্তিক কোন কারণে অনুপস্থিত থাকলে উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে পিতা-মাতার দাফন-কাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিচর্যাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ॥ সরকার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে পরিচর্যাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করবে। সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনমূলে যে কোন প্রতিষ্ঠানকে পিতা-মাতার পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থাকে পিতা-মাতার পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি প্রদান করবে। সেই ক্ষেত্রে বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত পরিচর্যা কেন্দ্রকেও প্রণীতমালা অনুসরণ করতে হবে। সরকারী, বেসরকারী, উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত পরিচর্যা কেন্দ্র দিবাপরিচর্যা কেন্দ্র, রাত্রিকালীন পরিচর্যা কেন্দ্রে পৃথক কর্নার থাকবে। বেসরকারী যে সব সংস্থা পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে চায় তাদের জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংস্থাটির নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি, অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের সত্যায়িত কপি, কার্যকরী কমিটির সত্যায়িত কপি, বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন, হালনাগাদ বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশ থাকতে হবে। থাকতে হবে তফসিলি ব্যাংকের দেয়া হালনাগাদ অর্থিক স্বচ্ছলতার সনদ, আয়ের উৎসের বিবরণী, সংস্থাটির নামে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে দশ শতক জমির দলিল, সিটি করপোরেশনের ভেতরে হলে তিন কাঠার ওপর স্থাপিত বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র।

পরিচর্যা কেন্দ্রের মানদন্ড ॥ পরিচর্যা কেন্দ্রে পিতা-মাতার যে কোন তথ্য নথিতে রেকর্ড থাকতে হবে। তারা স্বীয় চিন্তা এবং অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারবে। তারা শ্রদ্ধা ও সম্মানজনক আচরণ পাবেন। স্বাস্থ্য, বিনোদন, কল্যাণমূলক সেবা পাবেন। তাদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগের সুযোগ থাকতে হবে। অভিযোগ দায়েরের অধিকার থাকতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। পরিচর্যা কেন্দ্রে অবস্থানরত সকলের একটি নির্দিষ্ট আইড নম্বর থাকতে হবে। এই আইডি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভর্তির পর সকল নিবাসীকে মৌলিক সেবাসমূহের বিষয়ে অবহিত করতে হবে। নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। অবস্থান কক্ষে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রত্যেক নিবাসীর জন্য পৃথক খাট, বিছানাপত্র, মশারি, লেপ বা কম্বল সরবরাহ করতে হবে। প্রয়োজন অনুসারে গরম পানি, হাই কমোড, টয়লেট হ্যান্ডেল, রাস্টিক টাইলস সমৃদ্ধ টয়লেট ফ্লোর, সকল দরজা বাইরের দিকে খোলার ব্যবস্থা এবং দরজায় হ্যান্ডেল থাকতে হবে। পরিধেয় বস্ত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রত্যেকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখার জন্য পৃথক লকার, টেবিল ও চেয়ারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সমাজসেবা অধিদফতর পরিচর্যা কেন্দ্রের আয়তন ও আবাস বিন্যাস গেজেট প্রজ্ঞাপনমূলে প্রকাশ করবে। প্রতিটি পরিচর্যা কেন্দ্রে কমপক্ষে একজন আবাসিক ডাক্তার, এজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, তিনজন সেবক সেবিকা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং একটি সচল এ্যাম্বুলেন্স সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে।

পরিচর্যা কেন্দ্র নিবাসীকে আঘাত, প্রহার বা কোন প্রকার শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। অশালীন বা নির্যাতনমূলক আচরণ করা যাবে না। লজ্জিত, অপমানিত, হেয়, খাট বোধ করে এমন কোন আচরণ নিবাসীর সঙ্গে করা যাবে না। কোন ধরনের যৌন হয়রানি, শারীরিক অঙ্গভঙ্গি করা বা কুরুচিপূর্ণ যৌন উদ্দীপক আচরণ করা যাবে না। কোন ধরনের যৌন কাজে লিপ্ত করা যাবে না। বেআইনী বিপজ্জনক ও নিপীড়নমূলক কোন কর্মকা-ে অংশ গ্রহণ করানো যাবে না। ধূমপান, মাদক সেবন ও গ্রহণ কারানো যাবে না। রাজনীতি, ধর্মীয় উগ্রবাদ, দেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্ববিরোধী কোন বৈঠক, সমাবেশ, শোভাযাত্রা করা যাবে না। প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার স্বার্থ বিরোধী কোন কাজে অংশ নেয়া যাবে না। পরিচর্যা কেন্দ্র পিতা-মাতার পরিচর্যা কেন্দ্রে অবস্থানরতদের পৃথক রাখার জন্য পৃথক ভবন, ফ্লোর, ব্লক, কক্ষ বিভাজন থাকতে হবে। সেখানে পিতা-মাতা, প্রতিবন্ধী পিতা, প্রতিবন্ধী মাতা, অন্যান্য জটিলরোগে আক্রান্ত পিতা, আক্রান্ত মাতাকে পৃথকভারে রাখতে হবে। পিতা-মাতার ভরণ পোষণে দুই ধরনের তহবিল থাকবে। স্থায়ী এবং অস্থায়ী তহবিল। স্থায়ী তহবিলে সরকার অর্থ প্রদান করবে। এই তহবিল কেন্দ্রীয় তহবিল হিসেবে থাকবে। স্থায়ী তহবিলে কোন ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি অনুদান হিসেবে প্রদান করবে। দানপত্রে কোন পিতা-মাতার নাম উল্লেখ থাকলে তা উল্লেখ করেই দানপত্র সম্পাদন করতে হবে। দানপত্রে প্রদানকারীর যে পিতা-মাতার জন্য সম্পত্তি দান করবে তাদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত অর্থ এই বিধিমালার অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে। স্থায়ী তহবিল বাণিজ্যিক ব্যংকে স্থায়ী আমানতে জমা থাকবে। এই তহবিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।

পিতা-মাতার নিউরোজনিতরোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, লিভার জিজিস কিংবা অন্য কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হলে, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীকক্ষ ও নিয়ন্ত্রক পিতা-মাতার ভরণ পোষণ তহবিল নিরীক্ষার ব্যবস্থা করাবেন। পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন, বিধিমালা, এই সংক্রান্ত নীতিমালা, বিধিবিধান, কর্মসূচী এবং পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পিতা মামা, ও সন্তানদের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করতে উঠান বৈঠক, পথনাটক, ক্যাম্পেইন, এডভোকেসি, সভা, কর্মশালা, বিজ্ঞাপন, পেস্টার, ফিফলেট, ব্রোশিয়র, ফ্লিপচার্ট ইত্যাদির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পিতা-মাতার ভরণ পোষণের বিষয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অন্যান্য গণমাধ্যম, ওয়েবসাইট, ওয়েবপোর্টাল, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বহুল প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া সমজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডো, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিতা-মাতার ভরণ পোষণে সন্তানদের উৎসাহিত করে তরুণ প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।