বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু কাল

বাহাদুর ডেস্ক :

টঙ্গীর তুরাগ তীরে কাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের বৃহত্তম সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। তিন দিনের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে ১৯ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে।

গত ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা ইজতেমা ময়দান। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে ইজতেমা আয়োজক কমিটি।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি মুকিম আশরাফ আলী বলেন, এরই মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির সব কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে প্রস্তুতিমূলক বয়ান শুরু হবে। বাদ আসর ও মাগরিবের পর বয়ান হবে। তবে এবার আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলভি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ না দিলেও তা সুন্দরভাবে সমাপ্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি। ইজতেমায় দ্বিতীয় ধাপে দেশের সব জেলার মুসল্লিরা নির্ধারিত খিত্তায় অংশ নেবেন।

ইজতেমা ও আশপাশের এলাকায় জল, স্থল ও আকাশপথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। পুরো এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার থেকে নাইট ভিশন বাইনুকুলার ব্যবহার করা হবে। ইজতেমাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল নির্ধারিত পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিয়োজিত থাকবে। বিশেষ করে, বিদেশ থেকে যেসব অতিথি আসছেন, তাদের এলাকার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা দিয়ে পুরো ইজতেমাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাদা পোশাকে প্রতি খিত্তায় দুজন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ওপরও নজরদারি করা হবে। ইজতেমা এলাকা হকার ও ভিক্ষুকমুক্ত রাখা হবে।

ট্রেনের যাত্রা বিরতি: ইজতেমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু হবে এবং প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রাবিরতি করবে। টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাসুদ রানা জানান, টঙ্গী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, চর্ম-যৌন সার্জারি, অ্যাজমা, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞসহ ছাড়াও তাদের তিনটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অফিস সহায়ক ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করবেন। ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত থেকে চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে ময়দানের আশপাশের এলাকায় বসে যাওয়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি হোটেল রেস্তোরাঁয় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তুরাগে নৌটহল ছাড়াও ডুবুরিদল মোতায়েন থাকবে।

টি.কে ওয়েভ-ইন