প্রতি কার্ড নিতে ৫হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ : গৌরীপুরে ভিজিডি’র চাল কম দেয়ায় কার্ডধারীদের ক্ষোভ

 প্রধান প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বুধবার (১ এপ্রিল/২০২০) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনে দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) ভিজিডি কর্মসূচীর প্রতি কার্ডধারীকে ৬০ কেজি করে চাল কম দেয়ায় ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর বাজারে কার্ডধারীরা প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবিলম্বে তাদের চাল ও কার্ড নেয়ার সময় দেয়া উৎকোচের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার বেগম সুলতানা আকন্দ জানান, উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের ২৮২জনের প্রত্যেকের মার্চ মাস পর্যন্ত ৫মাসের ডিও দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক কার্ডধারী ৩০ কেজির পাঁচ বস্তায় ১৫০ কেজি চাল পাবেন। এদিকে হিম্মতনগর গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী বেগম, মোঃ রংঙ্গো খানের স্ত্রী হালেমা খাতুন, ৪৬নং কার্ডধারী জয়নালের স্ত্রী, মোনায়েম খানের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন, মোঃ নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোঃ মমতা খাতুন, মোঃ জমেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ খোদেজা খাতুন, নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, বুধবার তাদের প্রত্যেককে ৫মাসের বিতরণ বিবরণীতে ১৫০ কেজি চালের ঘরে স্বাক্ষর নেন ৭নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। ভিজিডি কার্ডের ৫মাসের বিতরণ দেখা হয়েছে। তবে চাল দিয়েছে ৯০ কেজি। কার্ডধারীদের অভিযোগ এ মেম্বার আর মহিলা মেম্বারকে ৫হাজার করে টাকা দিয়ে তাদেরকে উপকারভোগীদের তালিকা নাম তুলতে হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমে তদারকি কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিও অনুপস্থিত ছিলেন।

কার্ড বিতরণে উৎকোচের বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি জানান, ৩ মাসের দেয়া হয়েছে। ২মাসের চালও ৭দিনের মধ্যে দিয়ে দিবো বলে দিয়েছি। তবে ৫মাসের ঘরে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। আরেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এখলাছ উদ্দিন নয়ন বলেন, কয় মাসে ডিও হয়েছে; তা জানি না! ৩মাসের ৩বস্তা পেয়েছি, দিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেকের পাঁচ মাসের চাল বরাদ্ধ আছে। যাদেরকে ৩মাসের দেয়া হয়েছে, তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ২মাসের চাল দেয়া হবে। এদিকে চাল বিতরণে কম দেয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে চাল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রমে বন্ধের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর। তিনি বলেন, চাল বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ সোহেল রানা পাপ্পুকে পাঠানো হয়েছে।

চাল বিতরণে কম দেয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার সুলতানা বেগম আকন্দ। তিনি বলেন, বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও চেয়ারম্যান প্রতিমাসের চাল, প্রতিমাসে দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার, তদারকি কর্মকর্তা ও নিয়োজিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার দুর্বল মনিটরিংয়ের অধিকাংশ ইউনিয়নে চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসাবেঁধেছে।

অপরদিকে বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ইউএনও ফারহানা করিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বেগম সুলতানা আকন্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর থাকলেও এসব কার্ডে নেই উপকারভোগীর তালিকাভূক্তির তারিখ ও ভিজিডি কার্ড বিতরণের তারিখ। ছবিতে নেই সিকিউরিটি সিল। ফলে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার নাম কর্তনের ঘটনাও ঘটছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন