পিতা-পুত্র মিলে সাতবারে ৩৭বছরের জনপ্রতিনিধিত্ব

প্রধান প্রতিবেদক : কাসেম ভাইয়ের চিন্তাধারা-গরীর দুঃখীর সেবা করা’ এমন ব্রত নিয়ে ১৯৭৪সালে গৌরীপুর পৌরসভায় প্রথম কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। এরপর তিনি একেএকে পাঁচবার কমিশনার নির্বাচিত হন। বাবার দেখানো পথে হাঁটেন তার বড় ছেলে আব্দুল কাদির। তিনিও দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে জনমানুষের ৩৭বছরের প্রতিনিধি পিতা-পুত্র!

জানা যায়, গৌরীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব ভালুকার মরহুম আব্দুর রহিমের পুত্র মোঃ আবুল কাসেম। জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৫সালে। ১৯৬৬সালে রাবেয়া আক্তার খাতুনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। ব্যবসা আর কৃষি কাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আপদে-বিপদের সঙ্গী হয়ে উঠেন আবুল কাসেম। নিজের জীবনের কথা চিন্তা কখনও করেননি তাই সাধারণ মানুষের প্রিয়মুখে পরিণত হন। ১৯৭৪সনে পৌরসভার নির্বাচিনে কমিশনার পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর তাকে কখনও পরাজয় বরণ করতে হননি। টানা ৫বার কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। মানুষের ইচ্ছা থাকলেও সমাজে নির্বাচনে আচারণ- কলাকৌশল পরিবর্তনের ধারার জন্য তিনি আর নির্বাচন করেননি। আক্ষেপ করে আবুল কাসেম বলেন, আমি কমিশনার থাকাকালে পুলিশ এলাকায় আসতে হয়নি, এতো খুন, হিংসা-বিদ্বেষ ছিলো না। সেই সময়ে সালিশ দরবারে গেলে মিমাংসা না করে আসি নাই। এখন সব কেমন যেন পাল্টে গেছে। মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ কমে যাচ্ছে, দরদ কমছে, ভালোবাসা কমছে-বাড়ছে অর্থ, বাড়ছে দ্ব›দ্ব-এ থেকে সমাজকে মুক্ত করা জরুরী। তিনি আরো বলেন, পুত্র তার মাকে পিঠিয়েছে, মা; বিচার চাইলো। সন্তানকে যখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালাম। মা-ই হাতজোড় করে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিলো। সেই মা আর সন্তানের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা দেখেছি। আজ তার মা নেই, ছেলেটাকে দেখলেই মনে হয়। এটি ছিলো পৌর শহরের চকপাড়ার ঘটনা।

দাম্পত্য জীবনে দুই পুত্র আর তিন কন্যার জনক তিনি। জনসেবার পাশাপাশি সন্তানদেরও সুশিক্ষিত করে তোলেন। বড় ছেলে আব্দুল কাদির পৌরসভার কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী, দ্বিতীয় পুত্র আব্দুর রহমানও ব্যবসায়ী। তিনি কন্যা পান্না আক্তার, স্বপ্না আক্তার ও রুনা আক্তার।

এদিকে বাবার জনসেবার হাত ধরেই পৌর কাউন্সিলার ২০১০সনে নির্বাচিত হন আব্দুল কাদির। বর্তমানে তিনি কাউন্সিলর। ১৯২৭সালে প্রতিষ্ঠিত গৌরীপুর পৌরসভায় বাবার ২৭বছর আর ছেলের ১০বছর এ যেন শতবছরের রেকর্ডে ঠাঁই পেতে যাচ্ছে। তিনি টানা দুইবার নির্বাচিত হন। আব্দুল কাদির বলেন, বাবার দেখানো পথে হাঁটছি। বাবা ও মায়ের নামে একটি স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছি সাদেক মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুল। তিনি আরো বলেন, মানুষের ভালোবাসার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করি। চেষ্টা করি প্রত্যেকটি মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়াতে। ভবিষ্যতেও থাকবো সেই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বক্ত্যিগত জীবনে আব্দুল কাদির বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন খন্দকার ফারাহ দীবার সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে কাশফিয়াতুজ জাহান কৌশি ৯ম শ্রেণিতে ও আর পুত্র সিদরাতুল মুনতাহার রেদোয়ান ৩য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।