পাক-ভারতে মন্দির মসজিদ থেকে ছড়াচ্ছে করোনা

বাহাদুর ডেস্ক :

ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদগুলো থেকে করোনা ছড়াচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানে তাবলিগ জামাত থেকেও ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি।

ভারতের পাঞ্জাবের শিখ ধর্মাবলম্বী এক পুরোহিত থেকে আক্রান্ত হয়েছে ২৭ জন। সম্প্রতি জার্মানি ও ইতালি সফরে গিয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী এই পুরোহিত।

রাজ্যের এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ জন। এদিকে রাজধানী নয়াদিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার ১৭৫ জনের শরীরে করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে।

ওই ব্যক্তিরা সম্প্রতি এলাকার বিভিন্ন মসজিদে সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসা তাবলিগ জামাতের অতিথিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

পাকিস্তানে তাবলিগের সমাবেশ থেকে ২৭ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহভাজন ৩৫ জনের পরীক্ষা করার পর দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ এটি নিশ্চিত করেছে।

দেশটির সিন্ধু প্রদেশের করাচীর মসজিদে আক্রান্ত হয়েছে ছয়জন। সম্প্রতি তারা ইরান থেকে দেশে ফিরে আসেন। এখন ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন তথা একঘরে হয়ে আছেন তারা।

মার্চের গোড়াতে দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার এক মুসলিম ধর্মগুরুর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা কয়েকশ তাবলিগ কর্মী। তাদের মধ্যে একজনের তামিলনাড়ুতে মৃত্যু হয়।

শরীরে করোনার উপসর্গ মিলেছিল তার। অনুষ্ঠানে হাজির থাকা আরও একজন অন্ধ্রপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত হন। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে একযোগে ১৭৫ জনের লালারস পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে।

দু’হাজার জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় সপ্তাহের গোড়া থেকে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিলো।

যদি এই ১৭৫ জনের মধ্যে একাধিক মানুষ সংক্রমিত হন, তাহলে সেখান থেকে দেশে বৃহত্তম গোষ্ঠী সংক্রামিত হবে। ফলে ভারতের করোনা পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এ ঘটনায় ওই এলাকা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। পুলিশ টহল দিচ্ছে যাতে কেউ বাইরে বেরুতে না পারে। এছাড়া প্রায় ২,০০০ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে দক্ষিণ দিল্লির এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।

সোমবার ডনের খবরে বলা হয়েছে, গত ১০ মার্চ থেকে রাইভেন্ডে তাবলিগ জামাতের পাঁচ দিনের একটি ইজতেমায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

ওই ইজতেমা থেকে ফেরা চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে বলে সিন্ধুর স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে। এরপর থেকেই মারকজটিকে কোয়ারেন্টিন করা হয়।

কোয়ারেন্টিনে রাখার সময় এদের মধ্যে একজন পালাতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে মারকাজ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। গত তিন দিন ধরে সেখান থেকে কাউকে বের হতে ও প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আয়োজনের শুরুতেই পাঞ্জাব সরকার তাবলিগের দায়িত্বশীলদের এমন পরিস্থিতিতে ইজতেমা আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করেই ইজতেমার আয়োজন অব্যাহত রেখেছিলেন তারা।

পরে ওই অঞ্চলে লকডাউন শুরু হয়ে গেলে চার দিন আগে সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা। ফলে সেখানে যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা আর ফেরত যেতে পারেননি।

টি.কে ওয়েভ-ইন