নৌকায় উঠে বহিষ্কার হলেন বিএনপির ৫ ইউপি চেয়ারম্যান

বাহাদুর ডেস্ক :

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় আওয়ামী লীগে যোগদান করায় বিএনপির পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাত নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১ মার্চ উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে।

বহিষ্কারের চিঠিতে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ভূঞা বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিমের স্বাক্ষর আছে।

জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে পাঁচজন ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। চারজন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং একজন বিএনপির দলীয় প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তারা উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পদে আসিন ছিলেন। তাদের গত ১ মার্চ উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ভুঞা বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত বহিষ্কারের চিঠি থেকে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চারজন এবং একজন দলীয় পদে থাকা স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাত নেতাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সাধারণসভার সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন খান শামীম, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দীঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, দিগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও দিগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সন্ধানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, ধলাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজহারুল ইসলাম মিঠু ভূইয়া।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক দীঘলকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহীন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বহিষ্কৃতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন খান শামীম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিম বলেন, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত চার চেয়ারম্যান ও দলীয় পদে থাকা একজন চেয়ারম্যান এবং সাবেক দুই চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

দলীয় গঠনতন্ত্র শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গত ১২ জানুয়ারি তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সাধারণসভার সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১ মার্চ তাদের বহিষ্কার আদেশের পত্র ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পত্র দিয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপিকেও অবগত করা হয়েছে।

দল থেকে বহিষ্কৃত ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্য নেতারা বহিষ্কারের আদেশের বিষয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পত্রপ্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন।

টি.কে ওয়েব-ইন