ধোপাজাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন

 

মোখলেছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
′′আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।” এই গানটিকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরোও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার জন্য এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৫নং সহনাটী ইউনিয়নের ধোপাজাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ′′বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশের মানুষের প্রাণের ভাষাকে রক্ষা করেছে। তার পর থেকে ধীরে ধীরে বাংলা ভাষা ও বাংলার মাটি দুইই আমাদের দখলে আসে। আর এসব সংগ্রামী চিন্তা চেতনা যাদের বুকে লালন ছিলো তারাই অসাধ্যকে সাধন করতে পেরেছেন। বিধায় জাতি তাদের আজও স্মরণ করছে।” তিনি আরোও বলেন, ′′বাঙালি জাতি আজীবন শহীদ ভাইদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে সকল শহীদদের শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারে সেজন্য এবং ধোপাজাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ শহীদ মিনারটি স্থাপন করা হয়। এই শহীদ মিনারের দৈর্ঘ্য ১৩ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট ও উচ্চতা ফ্লোর থেকে ৩ ফুট। এছাড়াও আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে সহনাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি তৈরি করেছি। আমার ইউনিয়নের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেগুলোতে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে সরকারি সহায়তায় অথবা আমার ব্যক্তি উদ্যোগে শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে।” এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, ধোপাজাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল মেনেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে আমার মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার জন্য যারা জীবন দিয়ে গেছে তাদের ঋণ কখনই শোধ করা যাবেনা। যাতে করে বাঙালি জাতি শহীদ ভাইদের আজীবন স্মরণ রাখে তাই এই শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।” এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিপন মিয়া, সহনাটী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেকান্দর আলী। তিনি বলেন, একটি শহীদ মিনার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আমাদের সকলেরই উচিৎ এই সম্পদ রক্ষা করা।” এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।