দোকানের সাটার ফেলে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন গৌরীপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান

মোখলেছুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
দোকানের সাটার ফেলে নিজেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন গৌরীপুরের উপজেলার চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান। তিনি সোমবার (৬ এপ্রিল/২০২০) শহরের অধিকাংশ দোকান নিজে হাতে সাটার নামিয়ে বন্ধ করে দেন। দোকানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রশাসনের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা খেলছেন, এটা ভুল! নিজের জীবনের সঙ্গে দেশের মানুষের সঙ্গে জীবন-মরণের যুদ্ধে এমন খেলা উচিত নয়। সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এরপরে উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়ে ছুটে যান ডৌহাখলা ইউনিয়নে। সেখানেও অর্ধশত দোকানের সাটার নিজ হাতে নামিয়ে দেন। অনেক দোকানীরা বিরক্ত হও, যদিও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেনি। এরমধ্যে ব্যতিক্রমী কাজও করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান। সবজি বাজারে গিয়ে শতাধিক দোকানীকে তাদের পন্যের মূল্য দিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। একজন কলা ব্যবসায়ী আরশেদ আলী, সারাদিনে ২/৩শ টাকা উপার্জন করেন। তার হাতেও ৩শ টাকা দিয়ে জীবন রক্ষার জন্য বাড়িতে থাকতে বলেন। এরপর চলে যান উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নে সেখানেও একই কাজ করেন তিনি।
উপজেলার সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করার জন্য তিনি নিজে গ্রামে গ্রামে গিয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুুরক্ষা থাকার জন্য উপদেশ দিয়ে আসেন। অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ বাজারে গিয়ে তিনি নিজের হাতে দোকানের সাটার নামিয়ে জনগণকে অনুরোধ করেন যাতে তারা ঘর থেকে বের না হয়। সহনাটী ইউনিয়নের পাছার বাজারে মানুষের ঢল দেখে তিনি হতাশ হয়ে যান। তারপর জমায়েতরত লোকদের তাৎক্ষণিক বাড়ি যেতে অনুরোধ করেন। সেখানে তিনি একাধিক চায়ের দোকানের আড্ডা ভেঙ্গে দেন। করোনা সম্পর্কে মানুষের অসচেতনতা দেখে তিনি দুঃখ করে বলেন, আপনারা কি এই বাংলাদেশকে চিন, ইতালি অথবা আমেরিকার মতো দেখতে চান। যদি তা না চান তাহলে খুব তাড়াতাড়ি নিজ নিজ বাড়ি চলে যান।
একই দিনে উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান বোকাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেন এবং একাধিক দোকানের সাটার নিজ হাতে নামিয়ে দোকানীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করেন। শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে অযথা ঘোরাফেরারত কয়েক যুবককে তিনি অভিভাবকদের ডেকে এনে, তাদেরকে বাড়িতে রাখতে বলেন।
একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ছুটে চলা একজন জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান। এ প্রসঙ্গে ডৌহাখলা ইউনিয়নের শিক্ষক এহসানুল হক বলেন, আজকে চেয়ারম্যানের প্রতি যাঁরা বিরক্ত হচ্ছেন, কালকে তারাই সাবাস চেয়ারম্যান বলবেন। কেননা, কালকে ভয়াবহতা তারা জানেন না। উপজেলা চেয়ারম্যানের রাতদিনের ভূয়সী প্রশংসা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সহসভাপতি মোঃ এমদাদুল হক। তিনি বলেন, এ পরিশ্রম দেশবাসী মনে রাখবে, মানুষকে বাঁচাতে চেয়ারম্যানের নিজের জীবনবাজি রেখে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ উনাকে হেফাজত করবেন।