দু’বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের কার্ড করতে এসে বাবা লাল মিয়ার চিরবিদায়

প্রধান প্রতিবেদক :
আর মাত্র দু’দিন পরে দু’ছেলেমেয়ের এসএসসি পরীক্ষা! মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু ছাড়া কিছুই নেই লাল মিয়ার। বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের কুলিয়ারচর গ্রামে। বৃদ্ধা মা রাবেয়া খাতুন, ৩ ছেলে আর ৪ মেয়ের বিশাল সংসারে একমাত্র ভরসা ছিলো কৃষিকাজ। এদের মধ্যে মেয়ে শিউলী আক্তার আর সুইটি আক্তার বাকপ্রতিবন্ধী। বুধবার (২৯ জানুয়ারি/২০২০) এ দু’মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আর বৃদ্ধা মায়ের জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য সাক্ষাত দিতে গৌরীপুর উপজেলা সদরে আসছিলেন। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর এলাকায় আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের চাকায় পিষ্ট হয় লাল মিয়ার মা রাবেয়া খাতুন, লাল মিয়া, লাল মিয়ার চাচী সাহেরা বানু। কথাগুলো বলতে বলতে এসএসসি পরীক্ষার্থী লাল মিয়ার পুত্র মোঃ খোকন মিয়া বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলো। তিনি আরো জানায়, তার আরেক বোন মোছাঃ লাকী আক্তারও এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে ময়মনসিংহের জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে।
এদিকে হাসপাতালে মুত্যৃর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত খোকনের ছোট বোন সুইটি আক্তার আর ফুফু জমিলা খাতুন। হাসপাতাল মর্গে আছে তার দাদী আর বাবার নিথর দেহ। এরমাঝেও ছুটছে খোকন মিয়া। এ প্রতিনিধিকে বলেন, বড় বোন বিউটির বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই আরিফ বিল্লাহ দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে, আরেকজন ভাই জুনাইদ বয়স ৩বছর। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম, এই মুর্হুত পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে।