দুঃখিত, কিছু মানুষকে মরতে হবে

বাহাদুর ডেস্ক :

‘আমি দুঃখিত। কিছু মানুষকে মরতেই হবে। এটাই জীবন। এজন্য আপনি গাড়ি কারখানা বন্ধ করতে পারেন না। যা ঘটছে সেদিকে আমাদের দেখতে হবে। এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।’

রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু নিয়ে উত্তাল ব্রাজিলের উদ্দেশে একথা বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিতীয় ট্রাম্প খ্যাত ল্যাটন আমেরিকা চরম ডানপন্থী এ নেতা শুক্রবার টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন। শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। এর আগেও করোনাভাইরাসকে ‘ফ্যান্টাসি’ বলে মশকরা করেছিলেন বলসোনারো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত সপ্তাহে একই সুর তুলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘করোনার কারণে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে চান।’

ব্রাজিলে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৩৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৬৮ জন। আক্রান্ত ও মৃত দুটির সংখ্যাই বেশি সাও পাওলো রাজ্যে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দেশের ২৬ জন গভর্নর তাদের এলাকায় সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও সরকারি সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে বলসোনারো এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তার ভাষ্য এতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত সপ্তাহে সাও পালোতে করোনায় মৃত্যুর ব্যাপারে বলসোনারোর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশে এ রাজ্যের গভর্নর সংখ্যা বাড়িয়ে বলছেন।

করোনায় মৃত্যুর হার বিচারে এ সংখ্যা ‘অনেক বেশি’। তিনি বলেন, ‘সেখানে কী ঘটছে আমাদের তা দেখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক স্বার্থে এটি সংখ্যার খেলা হতে পারে না।’

দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২২৩ জন। মারা গেছেন ৬৮ জন। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ২৭ হাজার ৩৬০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৯৭ হাজার জন। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার মানুষ।

মানুষকে সামাজিক দূরত্ব শেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী : জনগণকে সামাজিক দূরত্ব শেখানোর জন্য রাস্তায় নেমেছেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেশটিতে ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। শনিবার দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় সবার সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাদের অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

শুক্রবার রাজধানী শিলংয়ের বাজার ঘুরতে ঘুরতে এক লম্বা লাইনের সামনে গিয়ে বলেন, একে অন্যের কাছাকাছি দাঁড়ালে এই রোগ বেশি ছড়ায়। আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।

রাস্তায় আঁকা চিহ্ন অনুসরণ করুন। পরে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেন যেন জনগণ নির্দেশনা মানে এবং সেটা নিশ্চিত করা হয়। মেঘালয়ে এখনও কোনো করোনা আক্রান্তের খবর মেলেনি। কিন্তু তার আগেই নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টি করছেন সাংমা।

টি.কে ওয়েভ-ইন