ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মধ্যরাতেই প্রতিবাদমুখর শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক :

কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষিত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। উভয় কর্মসূচী থেকেই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) ভোররাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিয়ান খান জয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ অনেক নেতাকর্মী। এসময় তারা ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। মিছিলটি টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলের আগে রাতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

মিছিল শেষে ডাকসুর এজিএস ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের কর্মসূচির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করবে এবং পরে ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সাদ্দাম হোসেন আরো বলেন, এ ধর্ষণের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার জেগে থাকবে। ধর্ষণকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। ধর্ষিতার ছবি ও নাম প্রকাশ না করার আবেদন জানিয়ে ধর্ষকের ছবি প্রকাশ করার জন্য আমাদের সবাইকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভোররাত পৌনে চারটায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। মিছিলে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় যাদের অবহেলা আছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে বর্বরতম ঘটনা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের বিচারহীনতার কারণেই ঘটেছে। ধর্ষকদের বার বার ছাড় দেয়া হয়েছে, তখনই বাংলাদেশে এমন ঘটনা বার বার ঘটছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তা মেনে নিতে পারি না। সেজন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আগামিকালও আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি আছে। অবিলম্বে যারা ধর্ষনের ঘটনা সংগঠিত করেছে, যারা সহযোগিতা করেছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে শেওড়া যাওয়ার উদ্দেশে ঢাবির ক্ষণিকা বাসে ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামার পর অজ্ঞাত ব্যক্তি তার মুখ চেপে তাকে পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তার ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে নির্জন স্থানে অবিষ্কার করেন। পরে সেখান থেকে সিএনজি যোগে নিজ গন্তব্যে পৌঁছালে তাকে রাত ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, রবিবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিমকে তার মামা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, কয়েকজন শিক্ষক ঢামেক হাসপাতালে এসে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।