জনসেবায় মনোযোগ বাড়াতে মাইক্রোসফট ছাড়লেন বিল গেটস

বাহাদুর ডেস্ক : 

বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস জনহিতকর কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিতে সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

তিনি বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন, শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে চান। খবর বিবিসির

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ৬৫ বছরের বিল ওয়ারেন বাফেটের মালিকানাধীন হোল্ডিং কোম্পানি বার্কশায়ার হাথাওয়ের পর্ষদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন।

শুক্রবার নিজের লিংকইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বিল গেটস জানিয়েছেন, মাইক্রোসফট থেকে পদত্যাগ করলেও সংস্থাটি সবসময় তার জীবনের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে থাকবে। পাশাপাশি এর নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত থাকবেন।

তবে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন এটিকে আরেকটি ধাপে নিয়ে যেতে চাই। আমি দুটি কোম্পানিতেই অবদান অব্যাহত রাখবো। তবে বিশ্বের কঠিনতম কিছু চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমার প্রতিশ্রুতি কার্যকরকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

ফোর্বসের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি বিল গেটস। তার সম্পদের পরিমাণ ১০৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কম্পিউটারে সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।

তরুণ বয়সে তিনি কলেজ ছেড়ে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে আসেন। সেখানে তিনি তার শৈশবের বন্ধু পল অ্যালেনের সঙ্গে মাইক্রোসফট গড়ে তোলেন।

১৯৮০ সালে বিশ্বের অন্যতম টেকজায়ান্ট আইবিএমের সঙ্গে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম তৈরির চুক্তির পরপরই ভাগ্য খুলে যায় তার। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৬ সালে মাইক্রোসফট পরিচিত হয়ে ওঠে। এর এক বছরের মধ্যে মাত্র ৩১ বছর বয়সে বিল গেটস সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

বিল গেটস ২০০৪ সাল থেকে বার্কশায়ারের বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিনি বেশিরভাগ সময় তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত ‘বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সময় কাটান।

২০১৮ সালে এ দম্পতি জন হিতকর কাজে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার দান করে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে উদার পরোপকারী হিসেবে পরিচিতি পান।

টি.কে ওয়েভ-ইন