চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন মার্চের শেষ সপ্তাহে

বাহাদুর ডেস্ক :

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন আগামী মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে এসএসসি পরীক্ষার মাঝে ফেব্রুয়ারিতে সুবিধাজনক সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ উপলক্ষে আগামী মঙ্গলবার সভা আহ্বান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেখানে ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ হবে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১৭ মার্চ মুজিববর্ষ শুরু এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এরপর এপ্রিলজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা। এছাড়া ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে চট্টগ্রাম সিটিতে। কমিশন মার্চের ১২ ও ১৫ তারিখে এ সিটির ভোট করার চিন্তা করেছিল। কিন্তু ইসির চট্টগ্রাম অফিস ওই সময়ে ভোট করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময় না বলে তাদের মতামত জানিয়ে দেয়। পরে কমিশন তাদের চিন্তা থেকে সরে আসে এবং মার্চের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জান গেছে।

ইসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ প্রতিবেদককে জানায়, ঢাকা সিটির পর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। আয়তন ও ভোটের বিবেচনায় ঢাকার পর যেকোনোটি থেকে এ সিটি এগিয়ে রয়েছে। এর জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্য সিটিটি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটির ভোটের ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। এ সময় ধরে আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে ভোট আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থীদের প্রচার চলছে আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিনকে ঘিরে। তবে ভোটের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা থাকায় কিছুটা চাপে রয়েছে কমিশন। ওই সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রার্থীরাও চাচ্ছেন ভোটের সময়ে পরিবর্তন আনতে। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কারণে পেছনোর সুযোগ সীমিত। আর এগিয়ে এলেও প্রার্থীদের প্রচারের সময়ে কমিয়ে আনতে হবে। কারণ আগামী ২৮ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারের সুযোগ রেখে পরিপত্র জারি করেছে কমিশন।

এদিকে, ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনের এই জটিলতার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে কমিশনকে ভাবতে হচ্ছে। এ উপলক্ষে আগামী মঙ্গলবার কমিশন সভার আহ্বান করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। গত বুধবার কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত কার্যপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই দিন বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশনের ৫৮তম সভা আহ্বান করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, চসিক নির্বাচনের প্রস্তুতি ছাড়াও গাইবান্ধা-৩, ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৫৮ কমিশন সভায় বসবে ইসি। গতকাল বগুড়া-১ আসনের সরকার দলীয় এমপি আবদুল মান্নান মারা যান। এ সিটি নির্বাচনের বিষয়টিও ওই সভাতে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার চট্টগ্রাম নির্বাচন সংক্রান্ত এক সফরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আগামী মার্চে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে। এপ্রিল মাসে রমজান, সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষাও রয়েছে। মার্চ মাস ফাঁকা আছে কি না তা-ও দেখতে হবে। তবে মার্চ মাস একটি উপযুক্ত সময় হতে পারে। মার্চে পরীক্ষা তেমন একটা নেই। নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিইসির ওই কথার পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জানুয়ারি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশন চেয়েছিল মার্চের ১২ অথবা ১৫ তারিখে এ সিটির ভোট আয়োজনের জন্য। কিন্তু আমরা ওই সময়টাকে উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছিলাম। কমিশন আমাদের অনুরাধ রেখেছেন। আমরা প্রস্তাব করেছি মার্চের ২৯ অথবা ৩০ তারিখে ভোট আয়োজনের। দেখা যাক, কমিশন সভা থেকে কি ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই বলে আগেই ইসিকে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির পর এই সিটিতে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর প্রথম সভা হয় একই বছরের ৬ আগস্ট। এ সিটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আগামী ৫ আগস্ট। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটের ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে। এ সিটির মোট ওয়ার্ড ৪১টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৪টি, মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১১ জন, সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৭২১টি এবং কক্ষ ৫,১৪২টি।

টি.কে ওয়েভ-ইন