গৌরীপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুকনুজ্জামান পল্লবের চালের ডিলারশীপ বাতিল!

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক স্বজন ও অনলাইন পোর্টাল দৈনিক বাহাদুরে প্রকাশিত হয় ‘গৌরীপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪ বছরের চাল কোথায় গেল’! মঙ্গলবার এ ঘটনায় ২নং গৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুকনুজ্জামান পল্লবের ডিলারশীপ বাতিল করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সরকার। তিনি জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর। এরপর অভিযুক্ত ডিলারকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার তার দেয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ডিলারশীপ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তক্রমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর অধিনে প্রত্যেক ডিলারের দোকানের সামনে সুবিধাভোগীদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৬০জনের নাম থাকলেও তারা চাল পাননি। বিগত ৪বছর যাবত এ চাল কে নিলো; ঘটনা তদন্ত ও সুবিধাভোগীদের চাল ফেরতের দাবিতে চাল বঞ্চিতরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও তাদের চাল ফেরত দেয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মোঃ রুকুনুজ্জামান পল্লবের দোকানে রোববার তদন্তে যান ইউএনও সেঁজুতি ধর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সরকার ও গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন।
ডিলার ও চালবঞ্চিতদের সঙ্গে আলোচনা করেন তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান ইউএনও সেঁজুতি ধর চাল পায়নি এমন ৩৮জনের নামে তাৎক্ষনিক নতুন কার্ড ইস্যু করেন। তাদেরকে এ মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল প্রদানের জন্য ডিলারকে আদেশ দেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার জানান, এ কর্মসূচীর অধিনে প্রত্যেক সুবিধাভোগী বছরে ৫বার ৩০ কেজি করে ১৫০ কেজি চাল প্রতি কেজি ১০টাকা মূল্যে পাওয়ার কথা ছিলো। ইউএনও স্যারের নির্দেশে ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ডিলার মোঃ রুকুনুজ্জামান পল্লব জানান, প্রত্যেক মাসে কার্ডধারী বা তার স্বজনরা চাল নিয়েছে। তবে তাদেরকে সনাক্ত না করে চাল দেয়াটা ছিলো আমার ভুল।