গৌরীপুরে ৫৭ মন্ডপে দুর্গোৎসবকে রাঙাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এবার বেড়েছে পূজামন্ডপ। এ বছর ১টি বেড়ে ৫৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। কেনাকাটায় ব্যস্ত হিন্দু সম্প্রদায়। ঘরে ঘরে সজ্জিত হচ্ছে সৌখিন আল্পনায়ও। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিমন্ত্রণ আর উপঢৌকনও পৌঁছে গেছে। চলছে মন্ডপ এলাকার আলোকসজ্জা, বাহারী তোরণ নির্মাণ।
এদিকে গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকার প্রত্যেকটি পূজামন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য প্রত্যেকটি মন্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। এছাড়াও প্রত্যেকটি মণ্ডপ এলাকায় বিশেষ টিম করেছেন।
অপরদিকে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহানস উদ্দিনের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম, প্রত্যেকটি মন্ডপে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, ও আনসার-ভিডিপির সার্বক্ষনিক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, প্রত্যকটি মন্ডপ এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র কর জানান, এবার আরো উৎসবমুখর পরিবেশে সার্বজনিন দুর্গোৎসব পালন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা, ভয়ভীতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।


এদিকে পুকুরে ঝরণা আতশবাজি, মৎস্যকন্যার নৃত্য, বৃষ্টিভেজা শাপলা আর মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জায় এবারও মাস্টারপাড়া পূজামন্ডপ সজ্জিত করা হয়েছে বলে জানান মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজিত চৌহান। কালিখলা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর ঘোষ পিলু জানান, মূলসড়কসহ মন্দির আঙ্গিনায় এবার থাকছে আলোর ঝলকানি। প্রতিবছর মতোও এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবে সুসজ্জিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু চত্বর জানান দুর্গাবাড়ি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিবাস চন্দ্র বর্মণ। অপরদিকে ডৌহাখলা ইউনিয়নে প্রত্যেকটি মন্দির নতুনত্ব নিয়ে ‘মা’ বরণে প্রস্তুত বলে জানান বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহসভাপতি রতন সরকার। গৌরীপুরে এবারও সর্বোচ্চ প্রতিমা তৈরি করেছেন মৃৎশিল্পী সুকেশ পাল। তিনি জানান, এবার শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমায় আরো নতুনত্ব ও সাজে তৈরি করা হয়েছে। শেষ মুর্হূতে চলছে রঙ তুলি আঁচড় আর সুসজ্জিতকরণের কাজ। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, নিরাপত্তার জন্য ১৩টি টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডপে সাবক্ষর্নিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, উপজেলা পরিষদের উদ্যোগেও প্রত্যেকটি মন্দির ও মন্দির এলাকায় সার্বক্ষনিক মনিটরিং এর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ মন্ডপ রয়েছে গৌরীপুর পৌরসভায় ১৬টি, দ্বিতীয় অবস্থানে ডৌহাখলা ইউনিয়নে হচ্ছে ১২টি। এছাড়াও মইলাকান্দা ইউনিয়নে ৭টি, ৪টি করে পূজামন্ডপ রয়েছে অচিন্তপুর, মাওহা, বোকাইনগর ও রামগোপালপুর ইউনিয়নে, ২টি পূজামন্ডপ রয়েছে সিধলা, গৌরীপুর সদর ইউনয়ন, সহনাটী ইউনিয়নে।###