গৌরীপুরে স্বজন সমাবেশের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত

প্রধান প্রতিবেদক :
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে দু’টো চোখ। সন্তানদের দেখে বারবার চোখের কোণায় নিঃশব্দে জমা হচ্ছে অশ্রুজল। ছেলেটির নাম মিলন মিয়া। তিনি পৌর শহরের সতিশা গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র। ঢাকার শহরে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে পুড়ে গেছে শরীরের ৫২শতাংশ। বেঁচে আছে জীবনযুদ্ধের মাঝে। অন্য সময় কিছু পেলেও করোনা ভাইরাসের কারণে এখন কোথাও থেকে নেই কোন সহযোগিতা- সন্তানদের নিজে দু’বেলা খেতেও পারছে না, খবরটি পৌঁছে দেন প্রতিবেশী এস.এম আব্দুল জলিল। মিলন মিয়া সঙ্গে পুড়ে যায় সাদির মিয়ারও শরীর। তারও একই অবস্থা। খবর পেয়ে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে স্বজনরা সেখানে পৌঁছে যায়। তাদের অবস্থা দেখে স্বজনরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। স্বজনদের দেয়া এ ত্রাণ সামগ্রী নয়, প্রয়োজন চিকিৎসার জন্য অর্থও।

এদিকে কলাবাগানের আমেনা খাতুন। অন্যের বাড়িতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে কারো বাড়িতে কাজ করতেও যেতে পারছেন না। সেই ৬০উর্ধ্ব আমেনার হাতে স্বজনরা পৌঁছে দেয় ত্রাণ সামগ্রী। ত্রাণের ব্যাগটিও তিনি নিয়ে যেতে পারছিলেন না, স্বজনরা অন্যের বাড়ির বারান্দায় ঠাঁই নেয়া, আমেনার ৫ফুট প্রস্থ ও ৯ফুট দৈর্ঘ্যরে ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে আসে স্বজনরা।
অপরদিকে রিস্কাচালক তোতা মিয়া, বাড়ি বোকাইনগর ইউনিয়নে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। সারাদিনে মাত্র ৮৫টাকা আয়। তিনিও দুঃচিন্তায় ছিলেন। সেই মানুষটির টেনশন সাময়িকভাবে দূর করে দিলো স্বজনরা। আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার। যিনি ৪সন্তানের জনক। ব্যবসা বন্ধ। পুঁজিও নেই। তিনি ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা। কর্মহীন হয়ে পড়েন। তার হাতেও ত্রাণ ব্যাগ তুলে দেন স্বজনরা। এমন অসহায়দের সামার্থ্যনুযায়ী সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক পত্রিকা জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তরের দেশসেরা পাঠক সংগঠন গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন সমাবেশ।

সংগঠনের সভাপতি মোঃ এমদাদুল হক জানান, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে কর্মহীন ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে সাহায্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

সোমবার (৩০মার্চ/২০২০) ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অংশ নেন উপজেলা স্বজনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আল রাজের নেতৃত্বে প্রভাষক মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল আমিন তুহিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ গোলাম কিবরিয়া, স্বজন তাসাদুল করিম ও যুগান্তর প্রতিনিধি মোঃ রইছ উদ্দিন। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহযোগিতা করেন গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল হক, মহিলা কলেজের শরীর চর্চা শিক্ষক নাদিরা জামান পান্না, ইসলাম সিনিয়র মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আমিরুল মোমেনীন, আর.কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মালেক, চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বিনতে ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা রতন সরকার, বাপ্পী সরকার, মুক্তিযোদ্ধা সজল সরকার, গৌরীপুর মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রইছ উদ্দিন, মহিলা কলেজের প্রভাষক সেলিম আল রাজ, এক টাকার খাবার প্রজেক্টের রাহাত নূর, পৌরসভার কাউন্সিলার আব্দুল কাদির, স্বর্ণা টেলিকমের পরিচালক শ্যামল ঘোষ, ক্রীড়বিদ সুসমিতা ঘোষ, জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাসার, জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য মোঃ কামাল হোসেন, গৌরীপুর স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি শামীমা খানম মীনা, ডা. এ.কে.এম মাহফুজুল হক।

টি.কে ওয়েভ-ইন