গৌরীপুরে শহীদ হারুন দিবস পালিত

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৬৯’র গণঅভ্যূত্থানে গৌরীপুর কলেজের ছাত্র হারুণ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন, এ দিন থেকে হারুণ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২৭ জানুয়ারি/২০২০) প্রভাত ফেরি, পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রভাত ফেরি শেষে শহীদ হারুণ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ঐতিহাসিক শহীদ হারুণ পার্কে হারুণ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাকেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি রওশনারা নজরুল, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সদস্য সাবেক ভিপি মোঃ কাজিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডাঃ মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক বিধু ভূষণ দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুন্নানফ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রহিম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ নাজিম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গিয়াস উদ্দিন, আব্দুর রহিম, গৌরীপুর কলেজের সাবেক ভিপি বেগ ফারুক আহাম্মেদ, মাহফুজ উল্লাহ, জাতীয় পাটির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল গফুর, গৌরীপুর প্রেসকাবের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান কাউসার, হারুণ স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম.এ হাই, কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সভাপতি সভাপতি কানাই লাল দাস প্রমুখ।
৬৯’র গনঅভ্যুত্থানের এই দিনে (২৭ জানুয়ারি) পুলিশের গুলিতে শহীদ হন গৌরীপুর কলেজের ছাত্র আজিজুল হক হারুন। ‘জয় বাংলা, তুমি কে আমি কে, বাঙালী বাঙালী, জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিবকে আনবো, ৬দফা-১১দফা মানতে হবে-মেনে নাও এই শ্লোগানে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিলটি মধ্যবাজারে আসামাত্রই কন্ঠরোধ করতে পুলিশ গুলি চালায়। গণঅভ্যূত্থানে শহীদ আসাদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও আজও হারুনের স্বীকৃতি মিলেনি।
শহীদ হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ গ্রামে। মিয়া বক্স সরকারের পুত্র হারুনদের ৬ ভাই, ৩ বোন। নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশেই চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন। জরাজীর্ণ কবরটি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কিছু ইট দিয়ে ঘেরাও করে রাখা। কবরের পাশে এসে এখন আর কেউ হারুনকে স্মরণ করেন না।