গৌরীপুরে নারী শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাসের ঘটনায় সহকারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়ায় বুধবার (২২ জানুয়ারি/২০২০) সাময়িক বরখাস্ত হন ধুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কায়েস আল কায়কোবাদ ওরফে লাজুক মাস্টার। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে না গিয়ে বেতন উত্তোলন, মাদক সেবন ও বিক্রি, রাজনৈতিকদের ব্লেকমেইল, সাইভারক্রাইম অপরাধসহ রয়েছে নানা অভিযোগ।
শিক্ষা অফিসারের মামলায় লাজুক মাস্টার ও তার দুই সহযোগী তৌহিদা আক্তার রোমা (৩২) ও মোঃ শামসুজ্জামান শামস বাপ্পী (২৫) কে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতারের সময় নেশাগ্রস্থ ছিলো ও তাদের নিকট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক আইনের আরো একটি মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও ৩টি মামলার আসামী লাজুক মাস্টার।
এদিকে ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিউল হক বুধবার (২২ জানুয়ারি/২০২০) জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাসের ঘটনায় মামলা ও আরও একটি মাদক মামলায় ধুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কায়েস আল কায়কোবাদ লাজুক গ্রেফতার ও বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে জানা যায়, লাজুক মাস্টার উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধুরুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের পুত্র। ছাত্র জীবনে ঈশ^রগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেলে এজিএস নির্বাচিত হন। এছাড়াও গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার সাইভার ক্রাইম ও প্রতারণার ফান্দে পড়েন একাধিক জনপ্রতিনিধি। ফান্দেপড়া জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা লুটে নিয়ে শক্তিধর হয়ে উঠেন এই লাজুক মাস্টার। এ কারণে তার সহযোগী মোঃ শামসুজ্জামান শামস্ বোকাইনগরী বাপ্পী ব্যবহৃত নিজস্ব ফেসবুকে গত ৮জানুয়ারি বিকাল ৪টা ১৭ মিনেটে স্ট্যাটাস দেন ‘দ্যা ডন বাদশা লাজুক অব গৌরীপুর’। বাপ্পী বোকাইনগর ইউনিয়নের আবুল বাসারের পুত্র। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা। নেতাদের ফান্দে ফেলতে এ চক্রটির মূল অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয় তৌহিদা আক্তার রোমা। তিনি পৌর শহরের সতিষা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে।
এ দিকে লাজুক মাস্টার প্রায় দেড় বছর যাবত বিদ্যালয়ে না গিয়েই বেতন উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতার কারণে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষা অফিস কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম জানান, তৎকালীন ইইউও (উপজেলা শিক্ষা অফিসার) ও এইইউও (সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার) ব্যবস্থা নিতে গিয়ে আরো বিপাকে পড়েন। এ শিক্ষক ২০১৯সালের ১৪নভেম্বর থেকে অনুপস্থিত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম। আরেকটি সূত্র জানায়, জনপ্রতিনিধিদের মদদে কতিপয় শিক্ষকদের নিয়ে এ চক্রটি সিন্ডিকেট করে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কয়েক বছর যাবত নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের রাজত্ব করে যাচ্ছে। লাজুক মাস্টারসহ ৩জনের গ্রেফতারের খবরে প্রধান শিক্ষক নাসির মোহাম্মদ ইসতিয়াক ফেসবুকে লিখেন, ‘গৌরীপুর ফিরে পেয়েছে মুক্তভাবে পলচলার স্বাধীনতা’।
অপরদিকে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলাটি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। ফেসবুকে লাইক, শেয়ার ও মন্তব্যেও নজরদারি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজন সনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।