গৌরীপুরে গরম বাতাসে পুড়ে গেছে ২শ হেক্টর জমির ফসল

প্রধান প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়নে গরম বাতাসে আক্রান্ত হয়ে ১হাজার ৫শ ৬৭জন কৃষকের সোনালি ফসল পুড়ে গেছে। প্রায় ২শ হেক্টর আক্রান্ত জমি এখন বিবর্ণ রং ধারণ করেছে, আক্রান্তের পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে। রামকৃষ্ণপুর গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ কৃষক খোরশেদ আলী। তিনি বলেন, আমার জীবনে এমন কাণ্ডকাহিনী আর দেখি নাই। ধানের ক্ষেতও পুড়ে যায়! সব ধুসনা (চিটা) হয়ে গেছে, সব ধুসনা। আমরা শেষ হয়ে গেছি। তিনি জানান, গরম বাতাসের (হিটস্ট্রোক) কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেতের শুধু ধান নয়; অন্যান্য ফসলি জমিও পুড়ে গেছে। ধানের নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে ধানের শীষ পুড়ে গেছে।

একই গ্রামের সাবেক মেম্বার মো. সাদেক মিয়া জানান, প্রতিদিন সকালে আক্রান্ত জমি বাড়ছে। সূর্যের আলো মাথার উপরে উঠার সাথে সাথে আক্রান্তের জমি চোখের সামনে স্পষ্টভাবে ভেসে উঠে। সহনাটী ইউনিয়নের ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক মৃত আঃ ছামাদের পুত্র মোজাহিরুল হান্নান রায়হান বলেন, বুরো মৌসুমে আমার প্রায় ২ একর জমির ৮০ ভাগ ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও আমার ৩০শতাংশ জমির অর্ধেক পাটগাছও পুড়ে গেছে। টাকা হলে বাজারে চাল পাওয়া যাবে, কিন্তু গো খাদ্যের যে সংকট দেখা দিবে তা মোকাবেলা করা খুবই কষ্টকর হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার জানান, আক্রান্তের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ উপজেলার ৪নং মাওহা ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর, সর্বনিম্ন ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে ১০ হেক্টর আক্রান্ত। এছাড়াও ৫নং সহনাটী ইউনিয়নের ৫০ হেক্টর, রামগোপালপুর ইউনিয়নে ৪০ হেক্টর, অচিন্তপুর ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর ও ডৌহাখলা ইউনিয়নে ২০ হেক্টর।

এদিকে পৌর শহরের সতিষা গ্রামের মৃত শাহনেওয়াজের পুত্র মো. নুরুল হক জানান, চারপাশের সবার ধানক্ষেত সবুজ। আমার রোপিত ব্রিধান ২৮ এর ৪০শতাংশ জমি প্রথমে লালচে এখন কালচে রঙ ধারণ করেছে। কিছু অংশ সাদাটে। ধানের শীষ চিটা হয়ে গেছে। পুর্বদাপুনিয়ার চুনু মিয়া, সতিষার আমজত আলীর ধানের ক্ষেতেরও একই অবস্থা। অপরদিকে মাওহা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে মহিম উদ্দিনের পুত্র আরশেদ আলী, রহিম উদ্দিনের পুত্র বাবুল মিয়া, শামসুদ্দিনের পুত্র কালাচান, তাজ্জব আলীর পুত্র আবু তাহের, নাজিম উদ্দিন মুনশীর পুত্র আবুল হাসেম, হাজী হোসেন আলীর পুত্র খোরশেদ আলী, নঈমুদ্দিনের পুত্র রতন মিয়া, মহিম উদ্দিনের পুত্র খোরশেদ আলী, আঃ রশিদ ফকিরের পুত্র জুয়েল রানা, সনজু মিয়ার পুত্র এমদাদুল হক, আব্দুল কদ্দুসের পুত্র সুলতান মিয়া, মফিজ উদ্দিনের পুত্র সন্তু মিয়া, আব্দুল হেকিমের পুত্র নজরুল ইসলাম, হোসেন আলীর পুত্র মজনু মিয়া, কাসেম মিয়ার পুত্র শাহজাহান, মুকশেদ আলীর পুত্র আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল খালেকের পুত্র সবুজ মিয়া, আব্দুর রশিদের পুত্র কামরুজ্জামান, বাদশা মিয়ার পুত্র জজ মিয়া, সায়েদ আলীর পুত্র রমজান আলী, জব্বার আলীর পুত্র আবু তাহের, নিজমাওহা গ্রামের মজিবুর রহমানের পুত্র সোহাগ মিয়া, আব্দুল ওহাবের পুত্র সাইফুল ইসলাম, আপ্তাব উদ্দিনের পুত্র উসমান গণি, আব্দুল মজিদ খানের পুত্র মুনায়েম খানের সবুজধান ক্ষেত পুড়ে গেছে। তারা জানান, এসব ফসলি জমি থেকে এক ছটাক ধানও ঘরে তোলার সম্ভবনা নেই। ৫নং সহনাটী ইউনিয়নের ধোপাজাঙ্গালিয়া, পাছার, রাইশিমুল, ঘাটেরকোণা, দৌলতাবাদ, টেংগাপাড়া ও শাহাবাজপুর গ্রামেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন

Print Friendly, PDF & Email