গৌরীপুরে অকৃতকার্য সেই দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে!

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
বিদ্যালয়ের ওয়েবের পার্সওয়াড হ্যাক করে অকৃতকার্য দুই পরীক্ষার্থীর এসএসসি’র ফরম পূরণের ঘটনায় তোলপাড় চলছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে! সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি/২০২০) উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর’র নির্দেশে প্রবেশপত্র পেয়ে এ দু’পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আসনে বসেছেন। নিশ্চিত করেন গৌরীপুর আর. কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মোছাঃ লুৎফা খাতুন। তিনি জানান, ইউএনও’র নির্দেশে তাদেরকে প্রবেশ দেয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা দিচ্ছে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য দু’জন পরীক্ষার্থী হ্যাপি আক্তার ও মোছাঃ মনোয়ারা আক্তারের প্রবেশপত্র রোববার (২ ফেব্রুয়ারি/২০২০) গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে (ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে)। কেন্দ্র সচিব ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরোত্তম চন্দ্র রায়কে মুঠোফোন বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত বক্তব্যে জানান, এ দু’শিক্ষার্থী চুড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, দাখিলা পূরণ করেনি এবং সোনালী সেবার মাধ্যমে টাকাও জমা দেয়নি। প্রবেশ আসায় তিনি বিস্মৃত! এ ঘটনায় দু’শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে জানায়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী মহসিন আলম রনি তাদেরকে ফরম পূরণ করে দিয়েছেন।
অপরদিকে অকৃতকার্য ১৪জনের মধ্যে ২জন এসএসসি’র ফরম পূরণ এবং পরীক্ষার সুযোগ দেয়ায় অকৃতকার্য অপর ১২জন শিক্ষার্থী সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদেরকেও পরীক্ষা দেয়ার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে হট্টগোল করে। তাদের দাবি, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের যোগসূত্রের কারণে তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের শহীদুল হক সরকার জানান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেয়ারও হুমকি দিচ্ছে। অকৃতকার্য ২জনকে পরীক্ষা দেয়ার সঙ্গে জড়িত বোর্ডের কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অপরদিকে এ বিদ্যালয়ের ৩৮জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র রোববার (২জানুয়ারি/২০২০) পরীক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে। বোর্ডের কতিপয় কর্মচারী এ বিদ্যালয়ের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে দুই পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র দিতে গিয়ে বিদ্যালয়ের ৩৮জন পরীক্ষার্থীর ডাটা মুছে ফেলায় চরম বিপাকে পড়েন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিভাবক নিতাই চন্দ্র সরকার দাবী করেন, যারা বিদ্যালয়ের পাসওয়ার্ড হ্যাক করেছে ওদের শাস্তি চাই।
আরো জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থী ছিলো ২৫৯জন। তাদের মধ্যে চুড়ান্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয় ২৪৫জন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব শিক্ষার্থীদের যথা নিয়মে ফরম পূরণ সম্পন্ন করেন। তবে ২৩ জানুয়ারি দেয়া প্রবেশপত্রে দেখা যায় ফরম পূরণ করেনি পুরাতন ছাত্রের নামে চলে আসে ৩৮জনের প্রবেশপত্র। প্রবেশপত্র বিতরণ করতে গিয়ে ২৫জানুয়ারি এ পরিস্থিতি দেখতে পান। এরপর থেকে ৩৮জনের প্রবেশপত্রের জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ডৌহাখলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল হক সরকারের নেতৃত্বে শিক্ষক ও অভিভাবকরা বোর্ডে বারবার যোগাযোগের শনিবার ৩১জনের ও রোববার অবশিষ্ট ৭জনের প্রবেশপত্র পান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষ নরোত্তম রায় শুকরিয়া প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে রোববার সন্ধ্যায় প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে।
অভিভাবক তোফাজ্জল হোসেনের দাবী, ময়মনসিংহ বোর্ডের কতিপয় কর্মচারীর ভুলের কারণে তার সন্তানের লেখাপড়া বিঘœ হয়েছে। তাদের দিন কেটেছে হতাশায়, সন্তানরা দিনভর কেঁদেছে, এ পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের খোঁজে বের করতে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর জানান, বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। যেহেতু দু’শিক্ষার্থীর নামে প্রবেশপত্র ইস্যু হয়েছে, সুতরাং তাদেরকে পরীক্ষা দিতে কোন বাধা নেই। পরীক্ষা দিচ্ছে।