গৌরীপুরের কৃতি সন্তান ড. বাসেত হলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি

স্টাফ রির্পোটার :

ফহবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাসেত। সোমবার রাষ্ট্রপতির এক আদেশে তাকে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নে।

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২০ এর ১০ (১) এর ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাসেতকে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে চার বছর মেয়াদে নিয়োগ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. নূর-ই-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য নিয়োগের এ খবর প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাসেত ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও ২০১২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি ড. বাসেত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল খ্যাত বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলায় দেশের সপ্তম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত অনুমোদন হয় গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর। ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ নিউফিল্ডে বিশাল জনসভায় জেলাবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট চারটি বড় দাবি উপস্থাপন করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি।

দাবিগুলো ছিল হবিগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বাল্লা স্থলবন্দর স্থাপন এবং শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলা বাস্তবায়ন করা। অন্যান্য দাবিগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হওয়ার আগেই বাস্তবায়িত হয়।

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি গত বছরের গত ২৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। পরে বিলটি গত ২৩ জুন সংসদে উত্থাপিত হলে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটি ৭ সেপ্টেম্বর বিলটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিলটি প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়। বিলটিতে ৫৪টি ধারা রয়েছে। এতে সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন, সংজ্ঞা ছাড়াও আচার্য, উপাচার্যের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ট্রেজারার, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও অর্থ কমিটি সম্পর্কিত বিধান আছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদ থাকবে বলে বিলে বিধান রাখা হয়েছে। অনুষদগুলো হলো কৃষি অনুষদ, মৎস্য অনুষদ, প্রাণী চিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান অনুষদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ।

কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃষি বিজ্ঞানে উন্নত শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রচলিত অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ দেশে কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জেলায় এ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email