“গৌরীপুরের আরেক মানবিক মানুষ আবুল কালাম আজাদ”

 

মোখলেছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার ঃ মানবিকতার আরেক মহান পুরুষ ময়মনসিংহের গৌরীপুরের চূরালি গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৩০)। পেশায় অটোরিকশাওয়ালা।চারদিক ঘুরে ফিরে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটে চলা মানুষটির হৃদয়টা যে এতো সুন্দর ও পূতপবিত্র তার সাথে কথা না বলে বোঝার কোনো উপায় ছিলোনা। প্রতিদিনের মতো আজও বুধবার (১০ মার্চ/২০২১) তিনি জীবিকার সন্ধানে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হন। যাত্রী নামিয়ে যখন তিনি বিশ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হঠাৎ করেই তার নজরে পড়লো যাত্রীদের সিটে কালো একটা মানি ব্যাগ পড়ে আছে। তিনি মানিব্যাগটা হাতে নিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। এখন কী করা যায়? মানিব্যাগের মালিককে কোথায় পাবেন তিনি? ব্যাগটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন, ভিতর কী আছে সেটা দেখারও ইচ্ছে হচ্ছিলোনা তার। আশেপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন ব্যাগের মালিককে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তখন তার হঠাৎ মনে হলো ব্যাগের ভিতর কোনো মোবাইল নম্বর আছে কিনা। দেখে যে একটা মোবাইল নম্বর সংযুক্ত আইডি কার্ড রয়েছে। সেই আইডি কার্ডের সূত্র ধরে মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে ফোন করে সসম্মানে ফিরিয়ে দিয়ে দায় মুক্ত হন এই মানবিক মানুষ।

এদিকে মানিব্যাগের মালিক অটো থেকে নেমে আসার পূর্বেই ভাড়া মিটিয়ে মানিব্যাগ ভুলক্রমে ফেলে রেখে এসে চারিদিক তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন সেই অটোওয়ালাকে। কেননা, সেখানে ছিলো তার চাকরির সেলারির পুরো টাকা। সেলারি পেয়ে মায়ের জন্য একটা শাড়ি কেনার ইচ্ছেও ছিলো তার। পিতৃহীন সংসারে রয়েছে ছোট দুইটি বোন। তাদের লেখাপড়ার খরচও মিটাতে হয় এই সেলারি দিয়ে। শালিহর গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের পুত্র তাইজুল ইসলাম জুয়েল মানিব্যাগ হারিয়ে একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়ছিলেন।
হঠাৎ একটা অপরিচিত নম্বরে ফোন পেয়ে হৃদয়টা আৎকে উঠলো। এবং সেই অপরিচিত কণ্ঠের মধুর সম্ভাষণ – “ভাই আপনার মানিব্যাগ আমার গাড়িতে রাইখ্যা গেছেন। আমি আপনার জন্য মূলাকান্দি অপেক্ষা করতাছি, আপনি আইসা দয়া কইরা নিয়া যান।” ফোন পেয়ে জুয়েল তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে দেখে যে হলুদ রঙের টি শার্ট গায়ে দিয়ে সাদাসিধা একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মানিব্যাগটা জুয়েলের হাতে দিয়ে বলে, “দেখেন ভাই, আপনার সব কিছু ঠিক আছে কিনা” মানিব্যাগ পেয়ে এমনিতেই অনেক খুশি তবুও রিক্সাচালক আবুল কালামের শত অনুরোধে জুয়েল দেখে যে, মানি ব্যাগে নগদ ১১২৩০টাকা এনআইডি কার্ড, কলেজের আইডি কাড,বিকাশ একাউন্ট সিম, সিমে ছিল ৬ হাজার টাকার মতো সব ঠিক আছে।

একজন রিক্সাচালকের সততা দেখে তাইজুল ইসলাম জুয়েল বাকশক্তি হারিয়ে তাকে কিছু আপ্যায়নের চেষ্টা করলে তিনি সে আবদারও ফিরিয়ে দেন।
আবুল কালাম আজদের মতো এরকম মানুষ বেঁচে থাক আজীবন।

Print Friendly, PDF & Email