গাইবান্ধার ৬০ শ্রমিককে পাঠানো হল সুনামগঞ্জের হাওরে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

চলতি বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে উৎপাদিত ধান কাটা ও মাড়াই কাজের জন্য গাইবান্ধা থেকে ৬০ জন কৃষি শ্রমিককে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় গাইবান্ধা থেকে কৃষি শ্রমিকের ৬০ জনের একটি দল সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন এই কৃষি শ্রমিক পাঠানোর কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনসহ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

এর আগে কৃষি শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ছাড়াও শ্রমিকদের মধ্যে দুইটি করে উন্নতমানের মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণ করা হয়। পরে একটি বিশেষ বাসে করে শ্রমিকরা সুনামগঞ্জ জেলার উদ্দেশে রওনা হয়।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় লকডাউন থাকায় শস্যভাণ্ডার খ্যাত হাওর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দেশে খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য ওই সব এলাকায় সময় মতো ধান কাটা প্রয়োজন।

আসন্ন সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢল, ঝড়, বৃষ্টি, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধান কাটা ব্যাহত হতে পারে। এমন আশঙ্কায় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন জেলায় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তালিকাভুক্ত শ্রমিক সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের আলম মিয়া জানান, করোনাভাইরাস দেশে আসার পর থেকে তার কাজ-কর্ম বন্ধ হয়ে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। গত বছর সে ও তার এলাকার ২০-২৫ জন কৃষি শ্রমিক সুনামগঞ্জ, চলনবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ করে। সে সময় তারা একেকজন খরচ বাদ দিয়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে। যা তাদের সংসারের কাজে লাগায়।

তিনি জানান, এবারে তাদের নিরাশার প্রহর গুনতে হচ্ছে। এমন সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় ধান কাটার জন্য যেতে পেরে তারা আনন্দিত।

রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নের ৪০ জন শ্রমিক প্রথম দফায় প্রশাসনের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ধান কাটতে যাচ্ছে। এতে এলাকার লোকের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিদ্রুত আরও বেশি বেশি শ্রমিক পাঠানোর জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, করোনাভাইরাসের সময়টিতে লকডাউনের কারণে কৃষি শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক প্রথম দফায় ৬০ জন শ্রমিককে পাঠানো হল। পর্যায়ক্রমে আরও শ্রমিক দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হবে।