কাশ্মীরের উন্নয়নে পাকিস্তানের চেয়ে ১৬ গুণ বেশি ব্যয় করছে ভারত

কাশ্মীরের একাংশ ভারতের আর একাংশ পাকিস্তানের। কিন্তু দুই অংশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অর্থনীতির নানা সূচকে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য।দিল্লি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্য ল’ অ্যান্ড সোসাইটি অ্যালায়েন্স বিশ্লেষণ করেছেন দুই অংশের উন্নয়ন পার্থক্য।

প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জানাচ্ছে, বিতর্কিত ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে দ্বন্ধ আজও বিরাজমান। ঐতিহাসিক কাশ্মীরের অস্তিত্ব জড়িয়ে রয়েছে বর্তমানে ৩টি দেশে। ভারতে জম্মু-কাশ্মীর, পাকিস্তানের অধীনে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং চীনের অধীনে আকসাই চীন। যে কারণে বহু বছর ধরে স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে ভারতীয় সেনাদের। যার প্রধান ইন্ধনদাতা হলো পাকিস্তান।

ল’ অ্যান্ড সোসাইটি অ্যালায়েন্স এর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আজাদ কাম্মীরের বাসিন্দাদের জন্য ইসলামাবাদের যে পরিমাণ বাজেট শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি নাগরিক সুবিধা দিচ্ছে দিল্লি। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে দেখা গেছে-পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ১২ হাজার একশ’ ৫৬ কোটি পাকিস্তানী রুপি। আর জম্মু-কাশ্মীরে ৮৮ হাজার ৯শ’ ১১ কোটি ভারতীয় রুপি, যা পাকিস্তানের চেয়ে ১৬ গুণ বেশি। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের স্বাস্থ্যখাতে তহবিল দেওয়া হয়েছে ৬১৮ মিলিয়ন ডলার আর পাকিনস্তানের আজাদ কাশ্মীরে এই খাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬২ মিলিয়ন ডলার। জম্মু-কাশ্মীরে হাসপাতাল রয়েছে ৫ হাজার ৫শ’ ৩৪টি আর আজাদ কাশ্মীরে রয়েছে মাত্র ৭৩টি।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য প্রকট। পাকিস্তানে গিলগিট-বাল্টিস্তানে শিক্ষার হার ৬০ শতাংশ, রয়েছে মাত্র ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অপরদিকে জম্মু-কাশ্মীরে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার হার শতকরা ৬৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। জম্মু-কাশ্মীরে রয়েছে আরও চারটি ইনস্টিটিউট। কাশ্মীেরের শিক্ষাখাতে ভারত সরকার এরই মাঝে ব্যয় করেছে ১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, অপরদিকে আজাদ কাশ্মীরের জন্য পাকিস্তান করেছে ১৭৩ মিলিয়ন ডলার। বেসরকারি টেলিভিশন নিউজটোয়েন্টিফোর’র প্রতিবেদন অবলম্বনে