কাদম্বিনী/(রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকার) মরিয়াই প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই-মোশাররফ সোহেল

মোশাররফ সোহেল
সমগ্র পৃথিবী তথা দেশের এই মহামারী/দূর্যোগে মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকেই রক্ষা করুন, এই হলো আমার অন্তর আত্নার প্রতি মুহূর্তের তীব্র আত্ন কান্না। আজ সারাদেশে যেখানে সমস্ত প্রতিষ্ঠানই প্রায় বন্ধ সেখানে আমরা বিশেষত সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই মহামারী কালিন সময়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষের ভাষায় সীমিত পরিসরে। যেখানে সব কাজই করতে হচ্ছে সেখানে সীমিত পরিসরের সঙ্গাটা আমার জানা নেই। আবার ৮ জন কর্মকর্তার মাঝে ৫ জন পদায়নকৃত সেখানে Rotation wise duty ও আমার কাছে বোধোগম্য নয়। ঈদ, রোজা,পূজা,আয়করের অর্থ জমা নেয়া, নির্বাচনের অর্থ জমা নেয়া ইত্যাদি কাজে আমরা নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ করতে বাধ্য হই পেশাগত কারনে। এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি কাজেরই অর্থাৎ ভাল কাজ/ মন্দ কাজ এর স্বীকৃতি আছে। আমাদের বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আমরা সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারাই বোধহয় একমাত্র পেশাজীবি যে আমাদের কাজের কোন স্বীকৃতি নেই। আমরা ছা- পোষা প্রানী মরলেও রাষ্ট্রের কিছু আসে যায় না, আবার বাঁচলেও রাষ্ট্রের কিছু আসে যায় না। কিন্তু আমি মরলে একজন এতিম হবে সে আমার ৪ বছরের সন্তান, আমার আয়ান, আমার আত্নজ। সে প্রতি পদে পদে আমার শিহরন অনুভব করবে। স্ত্রী করতেও পারে আবার নাও পারে কারন নারী জাত বহু বিচিত্র। আজ মরনঘাতী কোভিড- ১৯ ভাইরাসের আক্রমনে যেখানে সারা বিশ্ব দিশেহারা সেখানে Stay home ই সবচেয়ে বড় campaign. আমাদের ব্যাংকারের জন্য বিষয় টি দাড়ায় stay in your office & provide your service. আর এই service প্রদানে ব্যাংকার ব্যতিত অন্য যে কোন পেশার লোকজন মারা গেলে তাদের টা দেশের জন্য, জাতির জন্য Supreme Sacrifice. আর আমরা ব্যাংকারদের অবদান অতীব তুচ্ছ, নগন্য ইত্যাদি। আর প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,ডাক্তার,নার্স এদের অবদান তো একবারেই অনস্বীকার্য। প্রশাসন, তারা তো অনেক বিদ্যা বুদ্ধির পরিচয় দিয়েই এত দোর পর্যন্ত এসেছেন। তাদের সদা কৃপাই যেন আমাদের পাথেয়। শুধু মাত্র বয়স অথবা কোটা অথবা ভাগ্য যাই বলুন না এর কারনে যেতে পারিনি বলে সারা জীবন সালাম দেয়ার জন্য হাতটা উঁচু করেই আছি। সাম্রাজ্যবাদীর গোড়া থেকেই যে ডিসি, এসপি,জজ ব্যারিষ্টারের বীজ আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বপন করা হয়েছিল তা আজও বহমান। মা তো ধরেই নিয়েছিল ছেলে আমার versity থেকে বের হয়েই ডিসি,এসপি ইত্যাদি হবেই। ৫ম শ্রেনির সার্টিফিকেটে গ্রাম্য স্কুল শিক্ষকের বয়স বাড়িয়ে দেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছরের সেশন জটে পড়া, ৩ বছর বিরতিতে বিসিএস পরীক্ষা হওয়া ইত্যাদি কারন তো আমার অক্ষর জ্ঞানহীন মা বোঝে না। তিনি তো শুধু বোঝতেন রাত জেগে আমার ছেলের পাশে বসে থাকতে হবে। ছেলে আমার মস্ত বড় হবে। “মা” আমি পারিনি! আমি পারিনি! আর এই একটা না পাওয়ার দরূন আমি রাষ্ট্রের জন্য কূলোর বলদ, একেবারে জ্ঞানহীন, আত্নমর্যাদাহীন, পিছিয়ে পড়া,মেরুদন্ড হীন,কৃপাপ্রার্থী, অনুভূতি হীন অসাড় শূন্য পেশাজীবি হয়ে গেছি। ঝড়- বৃষ্টি -দূর্যোগে আমার কোন বাধা নেই,বিপত্তি নেই।আমার প্রানের কোন মূল্য নেই, কোন ব্যথা নেই, কোন কষ্ট নেই, কোন আকুতিও নেই। অন্যের তুষ্টতা অর্জনই আমার বড় দায়িত্ব। আমার জন্য কোন Reward নেই কিন্তু Revocation আছে। আমি কি সত্যিই অপদার্থ! অথচ আমি তো জানি আমিও পারতাম। আমাদের কথা বলা অথবা আমাদের কথা শুনার মতো কেউ নেই ঠিক যেন কোথাও কেউ নেই। হায়রে! মূল্যহীন সরকারি ব্যাংকার। তোমাদেরকে কাদম্বিনী এর মতো মরিয়াই প্রমাণ করতে হইবে যে তোমরা মর নাই। হে আল্লাহ তুমি আমাদের সকলকে ভাল রাখ, আমিন।
মোশাররফ সোহেল।
২৫ চৈত্র, ১৪২৬, আলোকালয়
ময়মনসিংহ।