করোনা ভাইরাস প্রার্দুভাব ঠেকাতে : শ্যামগঞ্জের লালবাহিনী হতে পারে দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

প্রধান প্রতিবেদক :
নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ওরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের জীবনের সুরক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে লাল রঙের পোষাক। আর পোষাকের সূত্রধরে ওদের নাম এখন লালবাহিনী! এ বাহিনীর দেখা মিলে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকা শ্যামগঞ্জে। শ্যামগঞ্জের একাংশ গৌরীপুর উপজেলায় আর অপরাংশ পূর্বধলা উপজেলাধীন। বুধবার (০১ এপ্রিল/২০২০) চলছে কর্মসূচীর চতুর্থদিন।

নিজের তাগিদেই প্রথমে কাজ শুরু করেন শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোবিন্দ বণিক। তাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় সংগঠন স্বপ্ন সমবায় সমিতি। সেটি ছিলো গত ২৮মার্চ, পিকআপে করে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ কাজটি দেখেন শ্যামগঞ্জের সন্তান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজহারুল ইসলাম মুকুল। তিনি এ কার্যক্রমটি স্থায়ীত্ব ও পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার মূল পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় বসবাসরত এ অঞ্চলের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তহবিল সংগ্রহ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম একজন গোবিন্দ বণিক জানান, এ কর্মসূচীর জন্য ১০টি স্প্রে মেশিন কেনা হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে অস্থায়ীভিত্তিতে ১০জন মেশিন অপারেটর। অপারেটরদের দেয়া হয়েছে জীবনরক্ষাকারী পোষাকও। ইতোমধ্যে কেনা হয়েছে ব্লিচিং পাউডার ৫০ কেজি, চশমা ১০টি ও রাবারের জুতা ১০ জোড়া। আরেক উদ্যোক্তা সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন মনোজ জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষার জন্য শ্যামগঞ্জ এলাকাকে জীবনুমুক্ত রাখার এ কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সাংবাদিক তিলক রায় টুলু জানান, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে স্থানীয় এ উদ্যোগ শুধু আশপাশের এলাকা নয়, দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এমন প্রয়াসেই পারে বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মুক্ত করতে।

মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকা শ্যামগঞ্জের এ প্রান্ত থেকে শেষ প্রাপ্ত পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বাজারের অলিগলিতেও করা হচ্ছে স্প্রে। এ এলাকায় যেসব যানবাহন চলাচল করছে সেগুলোতেও জীবানুনাশক স্প্রে করা এ কর্মসূচীতে নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ জানান, প্রথম অবস্থায় ১০দিনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতিতে কার্যক্রম বাড়তে পারে। যাঁদের অর্থায়ন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তারা হলেন এ এলাকার কৃতি সন্তান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজহারুল ইসলাম মুকুল, গ্রীনগিফট বাংলাদেশ স্কুলের পরিচালক ও সমাজকর্মী মিজানুর রহমান বাবু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন মনোজ, শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোবিন্দ বনিক, সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক তিলক রায় টুলু, ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলাম অসীম, মোখলেছুর রহমান খান মিল্টন, ঢাকা থেকে মিজানুর রহমান, আসাদুজ্জামান পাভেল, সুমন চক্রবর্তী, ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল আমীন, ব্যাংক কর্মকর্তা ইফতেখার ফরহাদ, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি অপূর্ব ঘোষ, ব্যবসায়ী সন্টি বনিক, রুপন ঘোষ, বিপুল দেব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্টার শারমীন জাহান এ কর্মীদের জন্য ২৫০পিস হ্যান্ডগ্লাবস ও ৫০টি মাস্কের ব্যবস্থা করেন। ঢাকা থেকে অর্নব সরকার পাঠান আরো ব্লিচিং পাউডার, ৫০ পিস হ্যান্ডগ্লাবস্ ও ২ লিটার সেনিটাইজার। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন বেলায়েত হোসেন মনোজ, তিলক রায় টুলু, গোবিন্দ বনিক, মফিদুল ইসলাম অসীম, মিল্টন খান, জয়ন্ত রায়, টুটন খান, মামুন আকন্দ, সৌরভ, অপূর্ব ও সংগঠটিন সাধারন সম্পাদক লিটন কুমার রায় পল্টু, যুবলীগ নেতা ফেরদৌস আহমেদ। তদারকি করছেন মফিদুল ইসলাম অসীম।

টি.কে ওয়েভ-ইন