করোনাকালে দুস্থদের ভাতার টাকা বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন ব্যাংক ম্যানেজার তুহিন

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

করোনা পরিস্থতিতে সারাদেশের মতো ময়মনসিংহের ফুলপুরবাসীও ঘরবন্ধী হয়ে পড়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে শহরে যানবাহন চলাচল। সীমিত পরিসরে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করলেও গ্রামাঞ্চলে সেগুলোর দেখা মিলেনা। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপকারভোগীরা ব্যাংকে এসে সরাসরি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে পারছেন না। আবার ব্যাংকে এসে ভীড় করলেও ব্যতয় ঘটতে পারে সামাজিক দূরত্বের।

এমন পরিস্থিতিতে ফুলপুর সোনালি ব্যাংকের ম্যানেজার খায়রুল আলম তুহিন নিজেই ব্যাংক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে দরিদ্র উপকারভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতার টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন।

জানা গেছে, ফুলপুর উপজেলায় ১ টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়ন রয়েছে। এরমধ্যে পৌরসভা সহ পয়ারী, রহিমগঞ্জ ও ফুলপুর এই তিনটি ইউনিয়নে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা ফুলপুর সোনালি ব্যাংক থেকে বিতরণ করা হয়। পৌরসভা সহ ওই তিন ইউনিয়নে বয়স্ক ভাতা পান ১২০০ জন ও বিধবা ভাতা পান ৭৫০ জন।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির পূর্বে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার উপকারভোগীরা সরাসরি ব্যাংকে এসে টাকা উত্তোলন করতেন। কিন্তু চলমান করোনা ভাইরাস উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এসব উপকারভোগীদের আর কষ্ট করে ব্যাংকে আসতে হচ্ছেনা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষই বাড়ি বাড়ি ভাতার টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন।

বুধবার দিনব্যাপী ফুলপুর সোনালি ব্যাংকের উদ্যোগে
রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ২৮০ জনকে বয়স্ক ভাতা ও ১০২ জনকে বিধবা ভাতার টাকা পৌঁছে দেয়া হয় । ব্যাংক কর্মকর্তাদের এমন আন্তরিক সেবা পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটে উঠে।

ফুলপুর সোনালি ব্যাংকের ম্যানেজার খায়রুল আলম তুহিন বলেন করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। তাই উপকারভোগীদের ঘরে রাখতে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতার টাকা পৌঁছে দিচ্ছি। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি চলাকালীন আমাদের এই সেবাকার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রহিমগঞ্জ ইউনিয়নে টাকা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর সোনালি ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কামরুজ্জামান, রহিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার প্রমুখ।