করোনাকালে দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন ডা.আমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বার। হাসপাতাল খোলা থাকলেও অনেক রোগী করোনা আতঙ্কে সেখানে ভর্তি হচ্ছেনা। এই অবস্থায় বাইরে ডাক্তার পাচ্ছেনা মানুষ। বিত্তবানরা ঘরে বসে চিকিৎসা নিতে পারলেও বিপাকে পড়েছন দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা।

ঠিক সেইসময় নিজের ব্যক্তিগত চেম্বার খোলা রেখে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেছেন ডা. মো. আমান উল্লাহ আমান।

গৌরীপুর পৌর শহরের শহীদ হারুনপার্ক সংলগ্ন ধানমহাল এলাকায় ডা. আমানের ব্যক্তিগত চেম্বার।

সেখানে বসেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অর্ধশত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তিনি। এক্ষেত্রে ফি নিচ্ছেন শুধু সামর্থ্যবান রোগীদের কাছ থেকে।

শুক্রবার বিকালে ডা.আমানের চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় অপেক্ষমান কক্ষে বসে আছেন কয়েকজন রোগী। তাদের জ্বর, সর্দি সহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে।

আর ডা. আমান ভেতরের কক্ষে বসে একজন একজন করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

করোনা সংক্রমণ রোধে নিজের সুরক্ষার জন্য ডা. আমান পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক, চশমা ও মাথায় টুপি পড়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি।

কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা বোকাইনগর গ্রামের শামীম ফকিরের সাথে। তিনি বলেন আমার ছেলের জ্বর ও কান পাকা নিয়ে আমান স্যারের কাছে চিকিৎসার জন্য আসছিলাম। আমি ফি দিতে চাইছিলাম। কিন্ত উনি আমার অভাবের কথা শোনে ফি না নিয়ে বললেন এই টাকা দিয়ে ছেলের ওষুধ কিনে নিয়েন। আইজকালের দুনিয়াত এমন ডাক্তার পাওয়া কঠিন।

পৌর শহরের ইসলামাবাদ মহল্লার বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন আমি গরিব মানুষ। টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ নেই। তাই আমান ডাক্তারের চেম্বারে এসেছি। ডাক্তারসাব অনেকক্ষণ আমার অসুখের কথা শোনে চিকিৎসেবা দিয়েছে। কিন্ত কোনো টাকা নেয় নাই।

এদিকে চেম্বারে বিনামূল্যে রোগী দেখার পাশাপাশি মুঠোফোনে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন ডা. আমান।
মুঠোফোনে স্বাস্থ্যসেবার নাম্বার ০১৯৩১৬৪৭৭৬৪।

তবে যে সকল রোগী স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন তাদের রোগ বর্ণনায় কোন সন্দেহ জাগলে ডা. আমান তাদেরকে ফিজিক্যালি চেম্বারে আসতে বলেন। পাশাপাশি জরুরী রোগীদের ক্ষেত্রে পরামর্শ দিচ্ছেন হাসপাতালে নেয়ার।

ডা. আমান উল্লাহ আমান আমান বলেন করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ সংকটময় মুহূর্তে আছে। এই সময় ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখা ডাক্তারের কাজ নয়। আমি চেম্বার খোলা রেখে সাধ্যমতো রোগী দেখছি। দরিদ্রের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে নিজের জন্য পিপিই সংগ্রহ করতে না পারায় ঝুঁকি নিয়ে রোগী দেখতে হচ্ছে।

গৌরীপুর পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন করোনা পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে ডা.আমান যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তা দেখে অন্যান্য ডাক্তারদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটুক। পাশাপশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দাবি জনস্বার্থে ডা.আমানকে যেনো দ্রুত পিপিই দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ডা. মো আমান উল্লাহ আমানের বাড়ি গৌরীপুর পৌর শহরের ধানমহাল এলাকায়। তিনি বগুড়া জেলার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বারডেম হাসপাতাল থেকে ডায়াবেটিস চিকিৎসার প্রশিক্ষণ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নাক,কান ও গলার প্রশিক্ষণ নেন।

এরপর তিনি গৌরীপুর প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন।