কবি মোশারফ করিম স্মরণে সাহিত্য আন্দোলনে তিনি নিবেদিত প্রান একজন কবি

অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত :

উনিশ শ আটাত্তুর সনে বাংলা অনার্সে পড়ি আনন্দমোহন কলেজে। পঁচাত্তর পরবর্তী ছাত্র আন্দোলন এর কাজ শুরু হচ্ছে। প্রায় সব সংগঠনের আহবায়ক কমিটি থেকে জেলা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমি তখন ছাত্র ইউনিয়ন এর কোন দায়িত্বে নেই। বেশির ভাগ সময় কাটে কবি দের সাথে। কলেজের বাংলা সেমিনার, বিকেলে তাজমহল রেস্টুরেন্টে কবি দের জমজমাট আড্ডা। এ সমস্ত আড্ডায় আমাকে নিয়ে গিয়েছিল বন্ধুবর কবি নাজমুল করিম সিদ্দিকী, প্রয়াত কবি মোয়াজ্জেম হোসেন আজাদ, কবি মামুন মাহফুজ, এবং কবি ছড়াকার, মনজুরুল আহসান বুলবুল (বর্তমানে সাংবাদিক)।মময়মনসিংহের তাজমহল রেস্টুরেন্টে আমি দেখি কবি মোশাররফ করিম মঞ্জু ভাই কে। মেদহীন, ক্লীন সেভট,মঞ্জু ভাই। উনাকে আমার সাথে কেউ পরিচয় করিয়ে দেয়নি। কিন্তু আমি তার নাম জানতাম, কেননা তার সাথে পরিচয় হওয়ার আগেই আমি তার কবিতার বই,পলি মাটির নোনা স্বাদ (সম্ভবত) দেখেছিলাম,সামান্য পড়েছিলাম। পরে শুনেছি এই বইটি তিনি উঠিয়ে নিয়েছেন। একজন কবি কে সামনে দেখলাম, যার বই বেরিয়েছে, তখন এটিই আমার কাছে বড় ব্যাপার। আমি আনন্দিত হয়েছিলাম কবি কে দেখে।
ময়মনসিংহ তখন কবি প্রান শহর। সাহিত্যের সম্মেলন, রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কবিতা পাঠ, সেমিনারে গল্প, কবিতা, পাঠ, সাহিত্য আলোচনা। বাংলাদেশ পরিষদ এ কবিতা পাঠের আসর, আলোচনা, বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন, নানা প্রকার লিটল ম্যাগাজিন, তা ছাপানো, প্রকাশ, এ সবের রমরমা আয়োজন এ শহর আন্দোলিত। জ্যেষ্ঠতায় -সে সময়ের তরুণ কবি,সাহিত্যিক দের ছায়া দেয়ার জন্যে বন্ধুর মতো একজন কবি প্রয়োজন ছিলো। তিনি তাই ছিলেন। একসময় বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। তখন সেই কবি দের অনেকের সাংগঠনিক দক্ষতাছিলো মজবুত। এভাবে তারা সকল কে নিয়ে সাহিত্য আন্দোলন এর প্রসারের জন্য একটি বিশাল সংগঠন গড়ে তুলতে সক্ষম হন। শুধু তারা নন, ব্যাপক সংখ্যক নিবেদিত প্রান কবি সাহিত্যিক ছিলেন যারা নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতেন, করছেন। এভাবে নির্মিত হয়েছেন কবি ও সাহিত্য সংগঠক মোশাররফ করিম মঞ্জু। রাজনৈতিক ভাবে তার আদর্শিক উত্থান, পতন আছে। কিন্তু সাহিত্য আন্দোলনে তিনি নিবেদিত প্রান একজন কবি।
সব বয়সের মানুষ কে বন্ধু হিসেবে কাছে টেনে নেয়ার যে অদ্ভুত সরলতা তার ছিলো তা অনন্য।
গভীর মমতায় আপনি থাকবেন আমাদের স্মৃতিতে।

প্রাবন্ধিক : সিনিয়র আইনজীবী, রাজনীতিবিদ