একটি জাতির উন্নয়নের বড় হাতিয়ার উচ্চশিক্ষা : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক :

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, একটি জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো উচ্চশিক্ষা। উচ্চশিক্ষা বলতে শুধু ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এমবিবিএস পঠন-পাঠনকেই বোঝায় না। উচ্চশিক্ষা একটি দেশপ্রেম ভিত্তিক মানবিক মূল্যবোধও তৈরি করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমসহ সার্বিক কর্মকাণ্ড এমন হওয়া উচিত যাতে তা মেধা ও মনন বিকাশে শ্রেষ্ঠ পাদপীঠ হয়ে উঠতে পারে।

রবিবার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর ১৯তম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর কুড়িলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সমাবর্তনে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে উত্তীর্ণ বিভিন্ন অনুষদের মোট চার হাজার ৫০২ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এরমধ্যে চ্যান্সেলার স্বর্ণপদক পান ৬ জন, ডা. আনোয়ারুল আবেদীন লিডারশিপ পদক ৩৯ জন, ভাইস চ্যান্সেলর পদ ৪০ জন, সুম্মা কুম লাউ-ডে পদক ১৪৬ জন, মেঘনা কুম লাউ-ডে পদক ২৩৬ জন এবং কুম লাউ-ডে পদক পান ৮১ জন।

এআইইউবি-এর সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নাদিয়া আনোয়ার এবং ভাইস চ্যান্সেলার ড. কারমেন জেড ল্যামাগনা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সফল অংশীদার হতে চাই আমরা। আমরা চাই একুশ শতকের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে। এজন্য শুধু ডিগ্রির সনদই যথেষ্ট নয়। যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কিছু বিশেষ দক্ষতা, যেমন- কমিউনিকেশন, প্রবেলেম সলভিং, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, কোলাবেরাশন, লিডারশিপ ও টিম বিল্ডিং, পরমতসহিঞ্চুতা, ন্যায়পরায়নতা, মানবিকতা, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং দেশপ্রেমের গুনাবলী অর্জন করতে হবে।

ডা. দীপু মনি জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার যুগোপযোগী মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ক্যাম্পাসে গঠনমূলক পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে হবে। আমি আশা করবো, এআইইউবি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।