ইতালিতে করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ১৩৩ জন

বাহাদুর ডেস্ক :

চীনের বাইরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সবচেয়ে ভয়াবহ থাবা বসিয়েছে ইতালিতে। দেশটির সেনাপ্রধানসহ রাজনীতিবীদরাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছে ১৩৩ জন। যেখানে চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩৩ জন।

রোববার পর্যন্ত ইতালিতে এ ভাইরাসে ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও পাঁচ হাজার ৮৮৩ জন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতালির লোম্বার্ডিসহ ১৫টি প্রদেশের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে। এ নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন ইতালির ৬ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মধ্যে অন্তত এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

এ হিসাবে দেশটির চার ভাগের এক ভাগ মানুষকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে যেতে হচ্ছে। রোববার এক ঘোষণায় কন্তে বলেন, আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেউ এই প্রদেশগুলো থেকে বের হতে পারবে না। বাইরে থেকেও কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।

এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম ঘেব্রেয়েসাস। এদিকে উত্তর কোরিয়ায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৩ হাজার ৬০০ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

উত্তর ইতালির এক কোটি ৬০ লাখের মতো মানুষ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাণিজ্যিক কেন্দ্র মিলান এবং পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ভেনিসের মতো শহরও কোয়ারেন্টাইনের আওতায় থাকবে।

প্রায় এক কোটি লোকের বসবাস থাকা লোম্বার্ডির পুরো উত্তরাঞ্চল এবং ইতালির বাণিজ্যিক নগরী মিলান অবরুদ্ধ রাখা হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে নিয়মের ব্যত্যয় হতে পারে।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাকি প্রদেশগুলো হল, মোদেনা, পারমা, পিয়াসেনজা, রেজ্জিও এমিলিয়া, রিমিনি, পেসারো অ্যান্ড উরবিনো, আলেসান্দ্রিয়া, অ্যাসটি, নোভারা, ভারবানো কিউসিও ওসোলা, ভারসেলি, পাদুয়া, ট্রেভিসো ও ভেনিস।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ব্যায়ামাগার, সুইমিংপুল, জাদুঘর এবং স্কি রিসোর্টগুলোও বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার এক ধাক্কায় ১৩৩ জন মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশটির লোকজন আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৫ প্রদেশকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী কন্তে বলেন, আমরা আমাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে চাই। আমরা বুঝতে পারছি এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে কোনো ক্ষেত্রে ছোট আবার কখনও বড় আত্মত্যাগের মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে।

ইতালি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আরও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান ও শেষকৃত্যসহ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

সিনেমা, নাইটক্লাব, ব্যায়ামাগার, সুইমিংপুল, জাদুঘর এবং স্কি রিসোর্টগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে খোলা থাকবে।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অবশ্যই এক মিটার দূরত্ব রেখে বসতে হবে। সব ধরনের খেলাধুলার আসর বন্ধ থাকবে।

ইতালির ফুটবল প্লেয়ার ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সব ম্যাচ পিছিয়ে দেয়ার আহ্বান করেছেন।

কেউ কোয়ারেন্টাইন ভঙ্গ করে তাকে তিন মাস জেলে কাটাতে হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছে ইতালি কর্তৃপক্ষ। ইতালির প্রথম সারির রাজনীতিবিদ নিকোলা জিঙ্গারেত্তি বলেছেন, পরীক্ষা করে দেখেছেন তিনি করোনায় আক্রান্ত।

মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির এ নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি ভালো আছি। কিন্তু কিছু দিন আমাকে বাড়িতে থাকতে হবে।’ প্রাণঘাতী এ সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তারদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেছে ইতালি।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্যাংউন ও চাঙাংপ্রদেশে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৩ হাজার ৬০০ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

দেশটিতে যাতে একজনও এ ভাইরাসে সংক্রমিত না হতে পারে সে জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কিম জং উন সরকার।

উত্তর কোরিয়ায় এখন একজনও করোনায় আক্রান্ত রোগী নেই। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে একজন করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি কেসিএনএ জানায়, মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে বিদেশি ৩৮০ জন। করোনা প্রতিরোধে দেশটি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

টি.কে ওয়েভ-ইন