অর্থকরী ফসলের তালিকা থেকে ‘তামাক’ বাদ দেওয়ার দাবী

ঢাকা প্রতিনিধি :

স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, পরিবেশ সকল ক্ষেত্রেই তামাক উন্নয়নের অন্তরায়। কৃষি বিপনন আইন, ২০১৮ তে তামাক কে অর্থকরী ফসলের তালিকায় রাখা হয়েছে। তামাক অর্থকরী ফসল হিসাবে উল্লেখ থাকায় আইন অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সরকারের সহায়তায় তামাকের ব্যাপক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ ঘটবে। যা দেশে চলমান তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই অর্থকরী ফসলের তালিকা থেকে তামাক কে বাদ দেওয়ার দাবীতে আজ ১৬ জানুয়ারী ২০২০ ধানমন্ডির আবহানী মাঠের সামনে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ও সবজি মিছিল থেকে বক্তারা এ দাবী করেন। বক্তারা ক্ষতিকর তামাক চাষের পরিবর্তে খাদ্য শস্য উৎপাদনে চাষীদের উৎসাহিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপত্বিতে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন স্ট্যামফোর্ড ইউনির্ভাসিটি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নান মনির, বাংলাদেশ নেটওর্য়াক ফর ট্যোবাকো ট্যাক্স পলিসি’র প্রতিনিধি হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, এইড ফাউন্ডেশনের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আবু নাসের অনিক, নবনীতা মহিলা কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক আতিকা হোসেন, তাবিনাজ এর প্রতিনিধি মো. রাশেদ প্রমূখ।
গাউস পিয়ারী বলেন, কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চাল  ও মাছ উৎপাদনে চতুর্থ, আম উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে। আলু উৎপাদনেও বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষ দশ দেশের কাতারে। তামাকের পরিবর্তে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক এ সকল পণ্যের সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরী।
ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক তামাক চাষের জন্য কৃষকদের সরাসির অথবা চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংক ঋণ বন্ধ/অর্থায়ন সুবিধা বন্ধে সার্কূলার প্রদাণ করেছে। জনস্বাস্থ্য অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই শীঘ্রই তামাকে অর্থকরী ফসলের তালিকা থেকে বাতিল করার দাবী জানাই।

হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, সংবিধানে তামাকের মতো স্বাস্থ্যহানীকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এ তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও ব্যবহার ক্রমাগত নিরুৎসাহিত করার জন্য উদ্বুদ্ধ এবং তামাক জাতীয় ফসল উৎপাদন ও চাষ নিরুৎসাহিত করবার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এর কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব বিবেচায় কৃষি বিপনন আইন ২০১৮ তে তামাককে অর্থকরী ফসলের তালিকায় রেখে নতুন আইন প্রণয়ন সংবিধান, রাষ্ট্রীয় আইন ও মহামান্য হাইকোর্টের রায় অবমাননার সামিল। যা সার্বিক তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতিশীলতাকে বিঘ্ন করবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অর্জন অব্যহত রাখতে তামাক বিরোধী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কর্মসূচি থেকে নিম্নোক্ত বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানানো হয়;
১. অনতিবিলম্বে ‘কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮’ এর ৩০ ধারা অনুসারে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিল সংশোধন করে অর্থকরী ফসলের তালিকা থেকে তামাককে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ২. ক্ষতিকর পন্য উৎপাদনকারী তামাক কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সকল মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব ও শেয়ার তুলে নেওয়া। ৩. দ্রুত তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়ন করা। ৪.তামাক চাষের জমিতে আলাদা ভুমি কর আরোপ করা। ৫.খাদ্য উৎপাদযোগ্য জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করার দাবী করা হয়।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, এইড ফাউন্ডেশন, বিএনটিটিপি, আর্ক ফাউন্ডেশন, বিসিসিপি, বিআরডিএস, বাঁচতে শিখো নারী, কারিতাস বাংলাদেশ, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি, হিমু পরিবহন, আইডাব্লিউবি, কেএইচআরডিএস, নাটাব, নবনীতা মহিলা কল্যাণ সমিতি, প্রজ্ঞা, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, প্রদেশ, সার্প, তাবিনাজ, টিসিআরসি, উদ্যোগ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে কর্মসূচি আয়োজন করে।